Alipurduar | আমরা এখনও বিচার চাই 

Alipurduar | আমরা এখনও বিচার চাই 

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: এক বছর হয়ে গেল অভয়া কাণ্ডের কোনও কূলকিনারা হল না। তরুণী চিকিৎসকের ওপর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক নির্যাতন এবং খুনের ঘটনার সুবিচার পেলাম না আমরা। বিচারের আশায় অভয়ার বাবা-মা আজও কোর্টের দরজায় দরজায় ছুটে চলেছেন। মানুষ কিন্তু আজও ভুলতে পারেনি ৮ অগাস্ট গভীর রাতে ঘটে যাওয়া সেই বীভৎস ঘটনার কথা। প্রতিটি বিবেকসম্পন্ন মানুষের অন্তঃস্থলে তা তুষের আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে।

এই বাংলায় যে কোনও বয়সের মেয়েদের ধর্ষকদের হাত থেকে যেন নিস্তার নেই। পকসো সহ অসংখ্য ধর্ষণ ও খুনের মামলা ঝুলছে বিভিন্ন আদালতে। দু’-একটি মামলা বিচার পেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচারের নামে প্রহসন চলছে। এসবের মধ্যেও আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা সমাজকে। তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সবাই। প্রকৃতপক্ষেই এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এটা কোনও প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ বা অলিগলির ঘটনা নয়। ঘটনাস্থল আরজি কর পশ্চিমবঙ্গের একটি নামী মেডিকেল কলেজ। সেখানেই মেয়েটির কর্মক্ষেত্র। নিজের কর্মক্ষেত্রে, এত লোকের ভিড়ের মধ্যে তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হল। যে কোনও মেয়ে ধর্ষিত হলে, এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা সেই নিগৃহীতা মেয়েটির পোশাক, রাতবিরেতে একা বাইরে চলাচল করা, এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক্ষেত্রে তো তেমন কোনও অভিযোগের জায়গাই নেই। তাহলে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়?

অভয়ার ওপর আক্রমণ হয়েছিল গভীর রাতে। তবে কি রাতে মেয়েরা নিরাপদ নয়? প্রতিবাদে তাই মেয়েরা দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করল, রাতটা সবার। আমাদেরও। চলো রাতের দখল নিই। শুধু শহরের সচেতন মহিলারাই নয় গ্রামগঞ্জের মেয়েরাও তাতে সাড়া দিল। একটাই দাবি, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস!’

অভয়ার ঘটনায় আমরাও ধাক্কা খেয়েছিলাম প্রচণ্ড। অনবরত কথা হত শিক্ষক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক সহ নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে। হঠাৎই এই রাত দখলের কর্মসূচিতে একটা প্রকাশ্য প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পেলাম। তৎক্ষণাৎ কবি মধুমিতা চক্রবর্তীর সঙ্গে আমার কথা হল। আমি, মধুমিতাদি এবং সংগীতশিল্পী মৌসুমি ভট্টাচার্য ঠিক করলাম, আমরাও রাত দখল করব আলিপুরদুয়ারের কলেজ হল্টে। গান, আবৃত্তি আর স্লোগান হবে প্রতিবাদের ভাষা। পুলিশ মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিল না। কুছ পরোয়া নেহি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করার পর অনেকের ফোন আসতে লাগল। তারা আমাদের সঙ্গে শামিল হতে চায়। এ ছাড়াও শহরের গণ্যমান্য অনেক পুরুষমানুষও আমাদের পাশে আছেন বলে জানালেন। মানবিক মুখ, বিয়ন্ড হরাইজন পাবলিকেশন সহ বিভিন্ন সংস্থা ও নাট্যদলগুলি ফোন করে জানাল, তারা পাশে আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার পোস্ট দেখে শামুকতলা থেকে আবৃত্তিকার সুপ্রিয়া দেবনাথ, শিউলি পাল, শিক্ষিকা সুপ্রিয়া দাশ আমায় ফোন করে জানালেন, সঙ্গী হতে চান তাঁরাও। যশোডাঙ্গা থেকে কলেজে পড়া মেয়ে পূজা দাস, অনুরিমা বিশ্বাস, কামাখ্যাগুড়ি থেকে শিক্ষিকা ও বাচিকশিল্পী সঞ্চয়িতা নাগও একই কথা বললেন। সবাই প্রস্তুত হল রাত দখল করতে।

দেখতে দেখতে চারদিক থেকে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো চলে এল মেয়েরা। যাঁরা কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাঁরাও এসেছিলেন। অনেক বয়স্ক মহিলা, ঠিকমতো চলতে পারেন না, তাঁরাও এসেছিলেন। সবার মুখেই প্রতিবাদের ভাষা। এ ছিল সকলের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান।

আমাদের এই জমায়েত ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। ভেবেছিলাম, সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সভায় অনেকেই উপস্থিত হতে চাইবে না। সব ভুল প্রমাণিত করে লাখো মেয়ের কণ্ঠস্বর সেদিন আলিপুরদুয়ারের রাতের আকাশ-বাতাসকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তারপরেও আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্যদল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শহরে এবং গ্রামে জমায়েতের ডাক দিয়ে খোলা আকাশের নীচে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কিন্তু এতকিছুর পরেও আজও বিচার পেল না অভয়া। অভয়ার মা-বাবা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। নতুন করে মোড় নিচ্ছে মামলা। আবার আন্দোলন গড়ে তোলার সময় এসেছে। প্রয়োজনে আবার পথে নামব। আন্দোলন গড়ে তুলব। মধুমিতাদি এবং আরও অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, অভয়া বিচার পাবেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *