Alipurduar | ঘুম উড়েছে সিভিক ও ভিলেজ পুলিশের, আতশকাচের তলায় আলিপুরদুয়ারের একাধিক থানা

Alipurduar | ঘুম উড়েছে সিভিক ও ভিলেজ পুলিশের, আতশকাচের তলায় আলিপুরদুয়ারের একাধিক থানা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অবৈধ কাজ করাতে তৈরি হয়েছিল ‘হেল্প ডেস্ক’। যেগুলো সামলাতেন কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteer) ও ভিলেজ পুলিশ। কিছু ক্ষেত্রে কনস্টেবলদেরও দেখা যেত। এঁদের এতই প্রতিপত্তি ছিল যে, পুলিশের বড় আধিকারিকদেরও হার মানাত। তৃণমূল আমলে এই দুর্নীতিগ্রস্তরা রাজকীয় সুখে থাকলেও বর্তমানে কিন্তু তাঁদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। আলিপুরদুয়ারে অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত সিভিক ও ভিলেজ পুলিশ, কনস্টেবল, এসআই, এএসআই সহ দুর্নীতিগ্রস্তদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে খবর। সোমবার এবিষয়ে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘যাঁরা ভুল করেছেন, তাঁদের শাস্তি পেতেই হবে। আগে থেকেই তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছিল। জেলায় সুশাসন চাইলে, শাস্তি দিয়েই উদাহরণ তৈরি করতে হবে।’

ইতিধ্যেই দফায় দফায় ‘ক্লোজ অপারেশন’ শুরু করেছে পুলিশ (Police)। পুলিশলাইনে বদলি করা হচ্ছে দুর্নীতিতে যুক্ত থাকা কর্মীদের। সেখানে তাঁদের বসিয়ে রাখা হচ্ছে। হতে পারে বিভাগীয় তদন্তও। অনেকেই আবার ‘অভিযুক্ত তালিকায়’ নাম রয়েছে কি না, তা জানতে চাইছেন।

এই যেমন হাসিমারা ফাঁড়ির এক সিভিক নামী ফাঁড়ির ‘অঘোষিত বস’। টাকাপয়সার হিসেব নাকি তাঁর কাছেই থাকে। সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়িতেও একই অবস্থা। এঁরা সবাই তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বলে খবর। বিভিন্ন তৃণমূল নেতার সঙ্গে পুলিশকর্মীদের যোগাযোগ হয়ে আসছিল এই সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমেই। তাঁদের নাম ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশের হাতে এসেছে বলে খবর। তাঁদের নিয়ে খোঁজখবরও শুরু করেছে জেলা পুলিশ সুপারের অফিস।

অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের দুটি অঞ্চলের তৃণমূলের যুব সভাপতি নাকি সিভিক ভলান্টিয়ার! পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থেকে কীভাবে দলের কাজ করেছেন এই দুজন, সেই প্রশ্নও উঠছে।

আবার ব্লকেরই দুই ভিলেজ পুলিশ সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থেকে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এই দুজন নাকি আবার বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ হওয়ায়, তাঁরা প্রভাব খাটিয়ে নানা বেআইনি কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ।

আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের এক ভিলেজ পুলিশ নাকি আবার গ্রামে বিভিন্ন সময় সালিশি সভা করেছেন বলে অভিযোগ। কোনও ঘটনা ঘটলে, সেই খবর থানায় পৌঁছানোর আগেই, তা গ্রামে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সালিশি করে মিটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার পুলিশের পোশাক পরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্রামে মাতব্বরি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্তে নামতেই, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রাতের ঘুম উড়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *