উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার আবহে এবার সরাসরি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যোগাযোগ স্থাপন করল নয়াদিল্লি ও তেহরান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) টেলিফোনে বৈঠক করেছেন ইরানের (Iran) সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব তথা সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মহসিন রেজার (Mohsen Rezaei) সঙ্গে। ওমান উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলপথে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ভারতীয় কর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে দুই শীর্ষ কর্তার এই ফোনালাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সদ্য সমাপ্ত মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন ইরানি রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেই সফরের এক মাসের মাথাতেই দু’দেশের নিরাপত্তা প্রধানদের মধ্যে এই বার্তা বিনিময় আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা দিচ্ছে। যদিও দুই প্রধানের কথায় কোন কোন স্পর্শকাতর সামরিক বা নিরাপত্তা বিষয়ক পদক্ষেপ নিয়ে কথা হয়েছে তা গোপন রাখা হয়েছে, তবে দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়া তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েই মূলত মতামত বিনিময় হয়েছে।
এই আলোচনার পেছনে আসল সলতেটি সলতে পাকিয়েছে রবিবার ওমান উপকূলের অদূরে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক হামলা। নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি পেট্রো ডলফিন’ নামক একটি ট্যাঙ্কার জাহাজে চালকহীন ড্রোন আঘাত হানলে তীব্র সংকট তৈরি হয়। পরিষেবা প্রদানকারী ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ৯ জনকে উদ্ধারে সাফল্য মিললেও ২ জন এখনও নিখোঁজ। ঠিক তার পরপরই একই বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘এমটি ভলথেরা’ নামের অপর একটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়। ভাগ্যক্রমে সেই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় কর্মীর সকলেই অক্ষত রয়েছেন।
বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের ধারাবাহিক আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানিয়ে কড়া বিবৃতি জারি করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সাগরে আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবাধ নৌপরিবহণ ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার তাগিদ দিয়েছে দিল্লি। তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পশ্চিম এশিয়ার এই অশান্ত পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে কাজ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে ১৬ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭৫ জন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তার তাগিদেই ডোভাল-রেজা ফোনালাপে সমুদ্রসুরক্ষার বিষয়টিই মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

