রাহুল মজুমদার ও শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: এই মুহূর্তে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ব্যাংকক যেতে হলে যে ভাড়া গুনতে হবে, তার থেকেও বেশি টাকা লাগবে কলকাতা যাওয়ার টিকিট কাটতে! সাধারণ সময়ে মোটামুটি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কলকাতা পৌঁছানো যায়। সোমবার সেই ভাড়া ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। আর বাগডোগরা থেকে দিল্লি বা অন্য কোনও রাজ্য ঘুরে কলকাতা যাওয়ার বিমানের ভাড়া এদিন ছিল প্রায় ৩৯ হাজার টাকা (Airfare Enhance)।
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের জেরে সফর কাটছাঁট করে বাড়ি ফিরতে চাইছেন পর্যটকরা। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে দ্রুত বাড়ি ফিরতে ট্রেন-বিমানের ওপরই ভরসা করছেন অনেকে। আর মওকা বুঝে ভাড়া বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। শুধু বিমান ভাড়া নয়, বাসের ভাড়াও বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। যে এসি ভলভো বাসের ভাড়া ১৫০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে সেখানে সোমবার তা বেড়ে হয়েছে ৩০০০ টাকা। উত্তরবঙ্গে আসার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না। এর পরেও কেন বাসের ভাড়ায় লাগাম টানা যাচ্ছে না? বিমানের ভাড়া কমাতে কেন্দ্র সরকারই বা কেন পদক্ষেপ করছে না? এব্যাপারে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘আমরা সাড়ে চারশো টাকায় সরকারি বাসে কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। বেসরকারি বাসে কী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, আমার জানা নেই। আর বিমানের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ তো আমাদের হাতে নেই। তা সত্ত্বেও আমরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’ অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেল, সোমবারের মতো মঙ্গলবারও বিমানের ভাড়া চড়া। বাগডোগরা থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে যে উড়ান রয়েছে, তাতে ভাড়া প্রায় ১৮,৫০০ টাকা। অন্যদিকে, দুপুর এবং বিকেলের বাগডোগরা থেকে কলকাতা যাওয়ার সমস্ত বিমান ভাড়াই ১১ হাজার টাকার বেশি।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল থেকেই পাহাড় থেকে যাত্রীরা একে একে নামতে শুরু করেন। তারপরই ভিড় বাড়তে শুরু করে বিভিন্ন বাসের টিকিট বুকিং কাউন্টারগুলির সামনে। ভাড়ার অঙ্কও বাড়তে থাকে। বিমানের ভাড়া বেশি, এদিকে ট্রেন কম, বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই কলকাতা যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট কাটলেন অনীশ রায়, বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের মতো অনেকেই।
বাস পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কথায়, নন এসি বাসের টিকিটের দাম ৮০০ টাকার মধ্যে থাকে। সেই বাসের টিকিটের দামও হাজার টাকা ছুঁয়েছে। এত ভাড়া বাড়ার কারণ কী? তার যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর অবশ্য কেউ দিতে পারেননি। শিলিগুড়ি বাস ওনার্স বুকিং এজেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি সন্তোষ সাহার কথায়, ‘আড়াই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা তো মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে।’
অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, এদিন এসি ও নন এসি মিলিয়ে ৬০টি বেসরকারি বাস কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। প্রতিটি বাসের প্রতিটি সিটই ছিল ভর্তি। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত পাঁচটি বাস ছাড়া হয়েছে। নিগমের ডিভিশনাল ম্যানেজার সৌভিক দে বলেন, ‘এদিন ২৫০ জন যাত্রীকে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে। আরও ছয়টি বাস আমরা হাতের কাছে রেখেছি।’
