উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যের পুর এলাকাগুলোকে পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য করে তুলতে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় থুতু ফেলা বা যত্রতত্র প্রস্রাব করার অভ্যাস ত্যাগ না করলে গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। শুধু পথচারীই নয়, ব্যবসায়ীদের জন্যও থাকছে কড়া নিয়ম।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, শহর পরিষ্কার রাখতে পুর আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- থুতু ফেললে: ১০০ টাকা জরিমানা।
- যত্রতত্র প্রস্রাব বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে: ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
- দোকানের সামনে আবর্জনা: ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানের সামনে বর্জ্য জমা রাখতে পারবেন না। রাস্তা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাঁদেরও, অন্যথায় জরিমানা বাধ্যতামূলক।
শুধু জরিমানাই নয়, নাগরিক পরিষেবা আরও সহজ করতে চালু হয়েছে নতুন হেল্পলাইন নম্বর—১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরিষেবা পাওয়া গেলেও, শীঘ্রই তা ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যে কোনো নাগরিক তাঁদের সমস্যার কথা এখানে জানাতে পারবেন, এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভোর থেকে টানা বৃষ্টির জেরে কলকাতা (Kolkata) শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচ দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে পুরসভা। অগ্নিমিত্রা জানান, বর্তমানে ৩৯টি পাম্প কাজ করছে, পরিস্থিতি সামলাতে আরও ৩৪টি পাম্প ভাড়া করা হয়েছে এবং ৫০টি নতুন পাম্প আনা হচ্ছে।
রাজস্ব ফাঁকি রুখতে এবং শহরকে আধুনিক করতে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে:
১. ডিজিটাল হোর্ডিং: প্রাথমিকভাবে পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোডে ডিজিটাল হোর্ডিং বসানো হচ্ছে। এই হোর্ডিংগুলোতে উইকেন্ডে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে। ২. সোলার ডিজিটাল বাসস্ট্যান্ড: শহরজুড়ে পরিবেশবান্ধব বাসস্ট্যান্ড তৈরি করা হবে। প্রতিটি স্ট্যান্ডে মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট এবং শিশুদের জন্য বিশেষ ‘ফিডিং রুম’ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বঙ্গসফরকে সামনে রেখে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মগুলো বলবৎ হওয়ার আগেই শহরবাসীর সচেতনতা এখন বড় পরীক্ষার মুখে। তবে নেটিজেনদের একাংশের মতে, শহরকে ‘স্মার্ট’ (Good Metropolis) এবং বাসযোগ্য করে তোলার যে লড়াই প্রশাসন শুরু করেছে, তাতে নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণই হতে পারে সাফল্যের সেরা চাবিকাঠি।

