শিলিগুড়ি: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম নিয়ে সংশয় দূর করলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। রবিবার উত্তরকন্যায় মন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় একটি পরিবারের জন্য আলাদা ফর্ম পূরণের প্রয়োজন নেই। একটি পরিবারের যোগ্য মহিলারা একটি ফর্মেই আবেদন করতে পারবেন।
তাঁর কথায়, ‘একটা ফর্মের মধ্যেই অনেকের আবেদনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সকলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস দেওয়া যাবে। ফর্ম যাতে কম না পড়ে সেদিকে লক্ষ রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, একটি পরিবার একটাই ফর্মে আবেদন করতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কমবে। প্রথম থেকেই এই নিয়ম চালু রয়েছে। কিন্তু অনেকেই আলাদা আলাদা করে ফর্ম নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে একটা সময় ফর্মের অভাব দেখা দেওয়ার সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে এদিন মন্ত্রী এমন ঘোষণা করায় সেই সমস্যা মিটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তাঁরা।
নতুন সরকার শপথগ্রহণের পরই তাদের সংকল্পপত্র অনুযায়ী মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়া শুরু করে। এর জন্য ১৩ পাতার একটি ফর্মও প্রকাশ করা হয়। তবে এই ফর্ম নিয়ে প্রথম থেকেই নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সংশয় দূর করতে সরকারের তরফেও একাধিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গে এসে একটি পরিবারের জন্য একটি ফর্ম পূরণ করার বার্তা দিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী।
এদিকে, অফলাইন ছাড়াও অনলাইনে ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকে অনলাইনে আবেদনের চেষ্টা করেও প্রচুর নথিপত্র আপলোডিংয়ের ঝামেলায় পড়ে ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ ভেবেছিলেন, অনলাইনে ফর্ম ডাউনলোড করে সেটি পূরণ করবেন, কিন্তু পাশের বাড়ির কেউ তাঁকে বুঝিয়েছেন যে ওভাবে আবেদন করলে হবে না। তাই সকাল থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস এবং পুরনিগমের বিভিন্ন বরোতে লাইন দিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে ভিড় জমাচ্ছেন মহিলারা।
রবিবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনের অগ্রগতি নিয়ে খোঁজ নেন মন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কথা তাঁকে জানানো হয়। সেই বৈঠকেই আধিকারিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘একটা পরিবারকে একটাই ফর্ম দেবেন। সেখানেই বাড়ির সবাই আবেদন করবে। ফর্ম যাতে কম না পড়ে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।’
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম যাতে কম না পড়ে, সব মহিলাই যাতে ফর্ম পান সেটা দেখতে বলা হয়েছে। একটা পরিবারে একটাই ফর্ম যাবে। প্রত্যেক মহিলাকে আলাদা আলাদা ফর্ম দিতে হবে না।’ অর্থাৎ এখন থেকে ফর্ম বিলি করার আগে সেই পরিবারের তথ্য জানতে হবে সরকারি কর্মীদের, তারপরেই সেই পরিবারের জন্য একটি ফর্ম দিতে হবে।
