উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক হিসেবে কংগ্রেস (Congress) ও তৃণমূলের মধ্যে যোগাযোগ নতুন মাত্রা পেলেও, রাজ্যের মাটিতে দুই দলের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং টানাপোড়েন কাটেনি। সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সখ্যের নজির প্রায় নেই বললেই চলে, বিশেষত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কখনই মমতার হাত ধরার পক্ষে ছিলেন না। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলা নতুন নতুন সমীকরণের সাক্ষী থাকছে। একদিকে যখন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে, ঠিক সেই সময়েই তাঁকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সরাসরি আহ্বান জানালেন অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury invitations Mamata Banerjee)।
বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সোনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata banerjee) কথা হয় এবং বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁরা একে অপরকে সমর্থনও করেন। সেই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন যে তৃণমূলের যে সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদ রয়েছেন, তাঁদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সকলে কংগ্রেসে এসে নেতৃত্ব দিন, দল তা সানন্দে মেনে নেবে। কংগ্রেসের মতো সুবিশাল বটগাছের ছায়ায় যখন তিনি আশ্রয় নিয়েছেন, তখন সরাসরি দলীয় সদস্যপদ নেওয়া উচিত বলেই মত তাঁর। তবে মমতাকে বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দলের সেই যাত্রায় যেন তাঁর ‘ব্যাগেজ’ না নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এক্ষেত্রে ‘ব্যাগেজ’ বলতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাই ইঙ্গিত করেছেন। অন্যদিকে, দিল্লির সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং জানিয়েছেন যে এগুলি স্থানীয় বিষয়, যা নিয়ে কলকাতায় ফিরে তিনি জবাব দেবেন।
রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে অধীর চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দেন যে একসময় কংগ্রেস ছেড়ে পৃথক দল গঠন করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমানে তৃণমূল দল ও প্রতীক নিয়ে নানা অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর প্রধান অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের মাটিতে তৃণমূলের হাতে কংগ্রেস কর্মীরা ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফলে দিল্লির জোটের সমীকরণে দুই দল কাছাকাছি এলেও নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হিসেবেই তিনি মমতাকে কংগ্রেসে যোগদানের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে তিনি কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছেও এই প্রস্তাব পেশ করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানানোর পর থেকেই এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। অধীরের দাবি, তৃণমূলের যদি জোটে প্রকৃত সদিচ্ছা থাকে, তবে তাদের উচিত রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা। রাজনৈতিক অস্তিত্বের তাগিদেই আজ তৃণমূল দিল্লির কংগ্রেসের কাছাকাছি আসতে চাইলেও, তার প্রকৃত প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখা যাওয়া জরুরি বলে তাঁর মত। যদিও এই সমস্ত রাজনৈতিক তর্জা ও প্রস্তাব নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে অধীর চৌধুরী গত লোকসভা নির্বাচনে জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটিকে নিয়ে সাধারণ মানুষ আর মোটেও চিন্তিত নন।

