বাংলা ভাষার শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গন্ডগোলের জেরে দাড়িভিটে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২ স্কুল ছাত্র। তাঁদের স্মরণেই ২০ সেপ্টেম্বর ভাষা দিবস পালনের দাবি জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। আট বছর আগে দাড়িভিটের সেই ঘটনায় মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিল বিজেপি। এবার দুই ছাত্রের স্মৃতিতে তাঁদের মৃত্যুদিনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলল এবিভিপি।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) দক্ষিণবঙ্গ প্রদেশের দুই দিনব্যাপী কার্যকারিণী বৈঠক হয়েছে হলদিয়ায়। বৈঠকে শিক্ষাব্যবস্থা, নারী সুরক্ষা ও সংগঠন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রথমত, রাজ্য সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায় এবিভিপি। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা কমাতে ‘স্ক্রিন টাইম টু অ্যাক্টিভিটি টাইম’ কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং ছাত্রী সুরক্ষায় কলেজগুলিতে আত্মরক্ষা শিবিরের দাবি তোলা হয়। তৃতীয়ত, ২০১৮ সালে দাড়িভিটে ভাষা আন্দোলনের শহিদ রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মণের আত্মবলিদানকে স্মরণ করে ২০ সেপ্টেম্বরকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তোলা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট (Darivit) বিদ্যালয়ে বাংলা শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। অভিযোগ, অশান্তি থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধের মাঝে পড়ে প্রাণ হারায় দুই ছাত্র – রাজেশ সরকার, তাপস বর্মণ। এই নিয়ে সেসময় রাজ্য রাজনীতির জল গড়িয়েছিল বহুদূর। বাংলার বদলে ওই স্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিল বিজেপি। বলা হচ্ছিল, বাংলা ভাষার অমর্যাদা করা হচ্ছে। রাজেশ সরকার, তাপস বর্মণকে ভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গেও এই দিনেই পালিত হয় ভাষা দিবস। এবার আলাদভাবে ২০ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বাংলা ভাষা দিবস পালনের ডাক দিল এবিভিপি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
