উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের (Abhishek Banerjee Home Discover) বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বুধবার সন্ধ্যায় পুরনিগমের অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের পাঠানো নোটিস অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির দেওয়ালে সাঁটানোর ঠিক এক মিনিটের মধ্যেই তা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল। শুধু শান্তিনিকেতন নয়, অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কালীঘাট রোডের যে বাড়িতে নোটিস দেওয়া হয়েছিল, সেটিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুরনিগমের তরফে কড়া আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিট নাগাদ পুরনিগমের দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির দেওয়ালে নোটিসটি সাঁটান। কিন্তু ঠিক এক মিনিট পরেই, ৫টা ১১ মিনিট নাগাদ বাড়ির ভেতর থেকে বাউন্সাররা বেরিয়ে এসে সেই নোটিস ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে বাড়ির দেওয়ালে কেবল আঠার দাগ স্পষ্ট।
পুরসভার নথিতে হরিশ মুখার্জি রোডের ওই বাড়িটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থার নামে নথিভুক্ত। পুরনিগমের নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পত্তিটি একটি সংস্থার নামে থাকলেও আদতে সেখানে এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার বসবাস করছেন। এই পরিবর্তনের বিষয়টি পুরনিগমকে আগে জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কেন এই তথ্যের পরিবর্তন জানানো হয়নি এবং সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নোটিসে।
পুরসভার আইন অনুযায়ী, সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো নোটিস সাঁটানো হলে তা এভাবে ছেঁড়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পর পর দুবার এই নোটিস ছেঁড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুরকর্তারা। পুরনিগমের নিয়ম মেনে এবার এই ঘটনায় এফআইআর বা কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবির থেকেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপির বিধায়ক তাপস রায় বলেন, “প্রয়োজন হলে এই ঘটনায় অবশ্যই অভিযোগ দায়ের করতে হবে।” অন্যদিকে, প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য কড়া ভাষায় বলেন, “পুরসভা আইন অনুযায়ী নোটিস দিয়েছে। এবার নির্দেশ না মানলে পুরসভা আইন মেনেই ব্যবস্থা নিতে পারে। গরিব মানুষের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে, এখন দেখার বিষয় এই ক্ষেত্রে পুরসভা কী পদক্ষেপ করে।”
