প্রথমবার যখন বিয়ে করতে গিয়েছিলেন তখন গরুর গাড়ির যুগে বাসে করে বরযাত্রী নিয়ে গিয়ে চমকে দিয়েছিলেন প্রতিবেশীদের। নাতি-নাতনিদের আবদারে পঞ্চাশের দাম্পত্যে এসে আবার বিয়ে করতে হয়। দু’বছর আগে সেই বিয়েতে ডিজে বাজিয়েছিলেন। তৃতীয়বার বিয়ে হল বুধবার। তবে এবার আর হইহই করে নয়, নিজের স্ত্রীকে এবার কার্যত নীরবেই আবার বিয়ে সারলেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়।
আর যদিদং হৃদয়ং মম মন্ত্র ধ্বনি শোনা যায়নি। প্রাক্তন বিধায়কের কথায়, “আজ ছিল আইনি বিয়ে। হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো দাম্পত্য জীবনের বাহান্ন বছর পূর্তিতে আবার আইনি বিয়ে। আইনি ভাষায় যাকে বলে, ‘রেজিস্ট্রি ম্যারেজ’। কেন আইনি বিয়ে করতে হল খগেশ্বরবাবুকে? নিজ মুখেই শোনালেন কারণ। পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক ছিলেন খগেশ্বর রায়। দু’বার হেরে চারবার রাজগঞ্জ বিধানসভা আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। এই আসনে এবার গোহারা হারে তৃণমূল। প্রাক্তন হয়ে যাওয়ার পর এবার পেনশনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। জানান, পেনশন-সহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন প্রাক্তন বিধায়করা।
আরও পড়ুন:
গত সপ্তাহে কলকাতায় গিয়ে পেনশনের আবেদন করেছিলেন। তখনই তাঁকে জানানো হয় তার জন্য ম্যারেজ রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। বাধ্য হয়ে বুধবার স্ত্রী প্রতিমাকে নিয়ে জলপাইগুড়ি আসেন খগেশ্বরবাবু। জানান, ১৯৭৪ সালে যখন বিয়ে করি তখন বাস ভরে বরযাত্রী নিয়ে গিয়েছিলাম। ২০২৪ সালে পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে ডিজে এনে আনন্দ করে নাতি-নাতনিরা। এবার নিতান্তই সাদামাটা। এককথায় আইন মেনে দাম্পত্যের শংসাপত্র জোগাড় করতে এই বিয়ে। শংসাপত্র পেলেই আবার পেনশনের জন্য আবেদন জানাবেন। এখন আপাতত রাজনীতি থেকে সরে চুটিয়ে অবসর জীবন উপভোগ করতে চান। পরিবারকে সময় দিতে চান বলে জানান খগেশ্বরবাবু।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
