উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্বপ্নের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ এখন আইনি জটিলতার ঘূর্ণাবর্তে। ডায়মন্ড হারবারের পর এবার বিষ্ণুপুর (Bishnupur) থানায় সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের হলো নতুন একটি এফআইআর (FIR)। শুধু অভিষেক নয়, এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে সুমিত রায় এবং জাহাঙ্গীর খানের মতো ব্যক্তিদেরও। রাজনৈতিক মহলের মতে, একের পর এক অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তির পারদ ক্রমশ চড়ছে।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগকারী এবং প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সেবাশ্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার কারবার চালানো হচ্ছিল। সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ডায়মন্ড হারবার থেকে শুরু হওয়া এই সেবাশ্রয় প্রকল্পটির কোনো সরকারি ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্সই ছিল না। স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে এই চিকিৎসা শিবির দীর্ঘ সময় ধরে অবাধে চলল, তা নিয়েই এখন নবান্নের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই এফআইআর-এ কেবল সাধারণ আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগই নয়, বরং একাধিক কঠোর আইন যুক্ত করা হয়েছে:
- ওষুধ ও প্রসাধনী আইন
- পারমাণবিক শক্তি আইন
- জাতীয় মেডিকেল কমিশন আইন
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডায়মন্ড হারবার থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘সেবাশ্রয়’। এরপর ডিসেম্বরে সেই কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাতেও। বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে এই শিবিরের আয়োজন নিয়ে তখন থেকেই বিরোধীরা সোচ্চার ছিল। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের ঠিক পরেই সেবাশ্রয়কে ঘিরে এই আক্রমণাত্মক আইনি পদক্ষেপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের লাইসেন্সবিহীন একটি বড় আকারের প্রকল্প কীভাবে এতদিন আড়ালে ছিল, তা নিয়ে তদন্তের রিপোর্টে কোনো বড় চমক অপেক্ষা করছে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

