উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজনৈতিক ব্যস্ততা আর আইনি লড়াইয়ের দোলাচলে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের শিরোনামে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ফের তাঁর বাসভবনে সিআইডি-র আকস্মিক আগমন ঘিরে এদিন তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতির।
শুক্রবার বিকেলে সিআইডি (CID)-র একটি দল যখন অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এর ফলে নোটিস প্রদান নিয়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর অভিষেক বাড়ি ফিরলে সিআইডি প্রতিনিধিরা পুনরায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সন্ধ্যা সাতটা বাজার পর যখন অভিষেক নিজের ঠিকানায় ফিরলেন, তখন পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে।বাড়ি ফিরেই তিনি সাংবাদিকদের সামনে সিআইডি-র এই আচমকা ‘ভিজিট’ নিয়ে নিজের বিরক্তি ও ক্ষোভ গোপন করেননি। তবে সেই ক্ষোভের বারুদ ঝরিয়েই তিনি বাড়ির অন্দরে চলে যান। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি তদন্তকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা? অভিষেক অবশ্য তা মানতে নারাজ।
কৌতূহল তৈরি হয় নোটিস গ্রহণ নিয়ে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন গোয়েন্দাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার উপক্রম, তখন অভিষেক নিজে নোটিসটি গ্রহণ না করে অফিসের কর্মীদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সিআইডি কর্মকর্তাদেরও কার্যত নিরুপায় হয়ে ওই কর্মীর হাতেই আইনত নথিপত্র তুলে দিয়ে ফিরতে হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, তিনি কোনোভাবেই তদন্ত এড়াচ্ছেন না। বরং আইন ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তৃণমূল সাংসদের কথায়: “বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরেই ভবানীভবনে সিআইডি-র অফিসে গিয়েছিলাম, সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সহযোগিতা করেছি। সশরীরে হাজিরা দিতে বলেছিলেন, ৬টার আগে গিয়েছি। ১৪ তারিখ আবার যাব। আমি পালিয়ে যাইনি। নিজাম প্যালেস, ইডির কাছে গিয়েছি। আমি সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যেটুকু সহযোগিতা করা উচিত, তা করছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিআইডি-কে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার কারণ মূলত পূর্বনির্ধারিত দলীয় মিটিং। নেত্রীর বাড়িতে মিটিং চলাকালীন তদন্তকারী সংস্থা হাজির হওয়ায় তিনি কিছুটা সময়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেন, “যখন ইচ্ছা চলে আসবেন, তা হয় না। যোগাযোগ করে এলে আমি থাকব। তদন্তে সহযোগিতা করা আমার দায়িত্ব, কিন্তু প্রোটোকলও বজায় রাখা জরুরি।”
