উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে অস্বস্তি যেন কিছুতেই কমছে না। একদিকে যেমন দলে ভাঙন অব্যাহত, তেমনই অন্যদিকে একের পর এক আইনি জট। তবে এই চরম ডামাডোলের মাঝেই আইনি লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিধানসভায় বহুচর্চিত সই জাল মামলায় তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও এক মাস বৃদ্ধি করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta Excessive Courtroom)।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূলের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই চিঠিতে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষরে কারচুপির বা সই জাল করা হয়েছে। যেহেতু দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ওই চিঠিতে অভিষেকের স্বাক্ষর ছিল, তাই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। পরে এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডি (CID)-র হাতে। এই জল গড়ায় ভবানীভবন পর্যন্ত। অভিষেককে সিআইডি দপ্তরে ডেকে গোয়েন্দারা একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন।
এই মামলায় ইতিপূর্বেই হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে অভিষেককে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার মামলাটি ফের ওঠে হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। শুনানি শেষে বিচারপতি অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে একটি কড়া শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে— তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-কে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে।
অন্যদিকে, এই নোটিশের পাশাপাশি এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়েও হাইকোর্টে পৃথক মামলা করেছেন অভিষেক। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় রাজ্য সরকারকে নোটিশ দিয়ে আদালতের তরফে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সেই মামলার শুনানি রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভার স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন দলেরই জয়ী দুই বিধায়ক— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। এরপর ঋতব্রতের নেতৃত্বে জয়ী বিধায়কেরা স্পিকারকে পৃথক চিঠি দেন এবং তার ভিত্তিতে ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবার বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে পৃথক মামলা করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের নেতৃত্ব অস্বীকার করে ঋতব্রতের নেতৃত্বে অধিকাংশ জয়ী বিধায়ক ইতিমধ্যেই পৃথক শিবির গড়েছেন। এমনকি দলের প্রতীক ও তহবিল কোন শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়েও আদালতে জোরদার মামলা চলছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিষেক কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল, তা বলাই যায়।

