উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শালবনি জমি কেলেঙ্কারির (Salboni Land Rip-off) তদন্তে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি জমির ভুয়ো নথি তৈরি করে বিক্রির এই দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy) জেরায় জানিয়েছেন যে, জমি জালিয়াতির বিপুল পরিমাণ অর্থ দলীয় তহবিলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ অভিষেক (Abhishek Banerjee) নিজেই। শনিবার মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা নথিতে এমনই দাবি করেছে সিআইডি (CID)।
আদালতে পেশ করা সিআইডির নথি অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোড শাখার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে থাকা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে প্রায় সাত কোটি টাকা দফায় দফায় জমা করা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্টেই টাকা জমার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ধৃত সুমিত দাবি করেন যে, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের নির্দেশেই তিনি ওই অর্থ পার্টি ফান্ডে জমা করেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, ‘টি ঘোষ’ নামক এক ব্যক্তি সাংসদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁকে ওই টাকা দিয়েছিলেন। সুমিত এও দাবি করেছেন, তিনি জমি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে দলের নির্দেশে তিনি একাধিকবার শালবনিতে গিয়েছিলেন বলেও তদন্তকারীদের মুখোমুখি স্বীকার করেছেন সুমিত।
এর আগে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চার্জশিটেও এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস দিয়েছিল সিআইডি। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্যে জানা গিয়েছে, সুজয়ের গাড়িচালক ও অভিষেকের দুই দেহরক্ষীর বয়ানকে হাতিয়ার করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে সুজয়ের সঙ্গে সুমিতের নিয়মিত আর্থিক লেনদেন হত। এমনকি, সুজয়ের কলকাতায় সুমিতের দপ্তরে এসে টাকা পৌঁছে দেওয়ার তথ্যও সাক্ষীরা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সুমিতের নিজস্ব কোনও আলাদা কার্যালয় না থাকায় ক্যামাক স্ট্রিট কিংবা কালীঘাটে সাংসদ অভিষেকের কার্যালয়কেই তাঁর অফিস হিসেবে চেনে ওয়াকিবহাল মহল।
শনিবার মেদিনীপুর আদালতে সুমিত রায় ছাড়াও লক্ষ্মী ভুঁইয়া, নিত্য রায় এবং অমিত ঘোষকে হাজির করা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব ধৃতদের আরও জেরা করার প্রয়োজনীতার কথা আদালতে তুলে ধরে সাতদিনের হেপাজতের আবেদন জানান। অন্যদিকে, সুমিতের আইনজীবী প্রথমে জামিনের আবেদন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর আদালত সমস্ত ধৃতকে পাঁচদিনের সিআইডি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে খবর, সুমিতের এই বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে এবার ‘টি ঘোষ’-এর বয়ান রেকর্ড করা হবে। টাকার সঠিক উৎস জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় এই তদন্তের পরিধি আরও অনেকদূর গড়াতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। সুমিতের দাবি সত্যি প্রমাণিত হলে আগামী দিনে এই মামলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সুমিত সহ সমস্ত ধৃতকে ফের আদালতে পেশ করা হবে।

