ABHA Card Obligatory | তছরুপে লাগামের উদ্যোগ! আভা আইডি, বিমা কার্ড বাধ্যতামূলক করায় জোর

শিক্ষা
Spread the love


রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্ট (আভা) বাধ্যতামূলক (ABHA Card Obligatory)। কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া কোনও রোগীকেই আভা কার্ড ছাড়া ভর্তি করা যাবে না। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী হোক বা আয়ুষ্মান ভারত— ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিলে এই কার্ডও দেখাতে হবে। শনিবার উত্তরবঙ্গের চারটি মেডিকেল কলেজকে নিয়ে বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এদিকে, মেডিকেলে আর্থিক তছরুপ রুখতে বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে চলা (পিপিপি) সমস্ত পরিষেবা পেতে ই-প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ই-প্রেসক্রিপশন সহ সমস্ত নথি জমা না দিলে রোগীর বিল মেটানো হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব অবশ্য এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল উন্নত করতে তিনদিন ধরে শিলিগুড়িতে থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন ও বৈঠক করছেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। শনিবার তিনি কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও সুপারকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের অফিসের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা স্বাস্থ্য ভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন।

এই বৈঠকের শুরুতেই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালচাল নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন স্বাস্থ্যসচিব। জেলার হাসপাতালগুলিতে বহির্বিভাগ এবং অন্তর্বিভাগে কেমন রোগী হচ্ছে, রোগীদের আভা আইডি তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে, জেলায় প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুর হার সহ অন্য বিষয় ধরে ধরে তিনি খোঁজ নিয়েছেন। সব জায়গার সমস্যাগুলিও শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরেই স্বাস্থ্যসচিব মেডিকেলের সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন যে, আভা আইডি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বহির্বিভাগ হোক বা অন্তর্বিভাগ— সর্বত্রই চিকিৎসা করাতে এলে আভা কার্ড বা আভা নম্বর বাধ্যতামূলক।

রাজ্যের বেশিরভাগ হাসপাতাল ও মেডিকেলে এমআরআই, এক্স-রে, ল্যাবরেটরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি পিপিপি মোডে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় বারবার অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলেও পিপিপি মোডের বিল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কেননা সঠিক নিয়মে বিল জমা না দিয়েও নিয়মিত বরাদ্দ পেয়ে যাচ্ছে সংস্থা। এই দুর্নীতিতে হাসপাতালের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে এদিন স্বাস্থ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পিপিপি মোডে চলা এক্স-রে, এমআরআই বা অন্য যে কোনও ক্ষেত্রে রোগীর ই-প্রেসক্রিপশন জমা দিতে হবে। তারপরেই বিল মেটানো হবে।

জেলাগুলির তরফে দাবি করা হয়েছে, আভা কার্ড তৈরি করতে গিয়ে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পেতে সমস্যা হচ্ছে। সব মোবাইলে সবসময় ওটিপি আসছে না। আবার রোগী পরিচয়পত্র নিয়ে এলেও হয়তো তাঁর কাছে আধার নম্বরের সঙ্গে লিংক করা মোবাইল নম্বর থাকছে না। এই সমস্যা মেটাতে স্বাস্থ্যসচিব দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বস্ত করেছেন। সূত্রের খবর, ওটিপি ব্যবস্থা তুলে দেওয়া নিয়ে তিনি দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিনের বৈঠকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেও অনেকে সরকারি হাসপাতালে দেখাতে চান না। তাঁরা ভাবেন, পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে বেসরকারি হাসপাতালে আর বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যাবে না। এমন ক্ষেত্রে রোগীদের পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রাজ্য ব্যবস্থা করবে বলে স্বাস্থ্যসচিব বৈঠকে জানিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *