উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: একশো দিনের (100 Days Work) কাজে বাংলার ঝুলি শূন্য, অবশেষে মেনে নিল কেন্দ্র। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (MP Abhishek Banerjee) প্রশ্নের উত্তরে লোকসভায় অধিবেশন চলাকালীন কেন্দ্রের তরফে স্বীকার করে নেওয়া হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে একটাকাও বাংলাকে দেয়নি কেন্দ্র। কেন্দ্রের দেওয়া অনুযায়ী, সব রাজ্যের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হলেও বাংলা সেই টাকা থেকে এখনও পর্যন্ত বঞ্চিত।
বাংলার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য কেন? এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী কমলেশ পায়োয়ান লিখিতভাবে উত্তর দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের যে নির্দেশিকা, তা সম্পূর্ণভাবে পালন করেনি। টাকা পাওয়ার জন্য যে যে নির্দেশিকা পালন করার দরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা পালন করেনি। তাই বাংলার টাকা মেটানো হয়নি।’ এছাড়াও কোন কমিটি, কোন রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত, তাও উত্তরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘এই ইস্যু নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে হেরেছে কেন্দ্র। আবার সুপ্রিম কোর্টেও হারবে। নির্দেশ রয়েছে, কাজ শুরু করতেই হবে, টাকা দিতে হবে। এদিকে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক বলছে অন্য কথা।’ এ কথা শুনে পালটা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘বাংলার বরাদ্দ শূন্য হওয়া স্বাভাবিক, কারণ রাজ্য সরকার টাকা চুরি করেছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে একশো দিনের বকেয়া টাকা নিয়ে দিল্লিতে ধর্না দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে গতকাল কোচবিহারের জনসভা থেকে একই ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, ‘৬ ডিসেম্বর থেকে কোয়ার্টারলি লেবার বাজেট দেখাতে হবে সময় কোথায়? ডিসেম্বর চলে গেল, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। একটি গ্রামসভায় নাকি ১০ জন কাজ পাবে! এক পরিবারেই তো ১০ জন থাকে! আবার বলছে ট্রেনিং দিতে হবে। কবে দেব? কবে কাজ করাবে? এরপর কাগজটি উঁচিয়ে ধরে বলেন, ‘এই অর্ডারের কোনও ভ্যালু নেই। এটা ভ্যালুলেস। বাংলার মানুষ ভিক্ষে চায় না। তোমাদের অর্ডারকে ছিঁড়ে ফেলে দিচ্ছি। এটি কেন্দ্রের নির্দেশ নয়, তাঁর ব্যক্তিগত নোট। আমি মনে করি, এটা বাংলার প্রতি অপমান।’
