৮০ লাখ টাকার ঋণের টোপ। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোলতলার একটি বেআইনি কল সেন্টার থেকে ফোন করে ওই টোপ দিয়েছিল সাইবার জালিয়াতরা। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ৪০ লাখ টাকা খোয়ালেন পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটার এক ব্যবসায়ী। তদন্ত শুরু করে কল সেন্টারের মালিক-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করলেন বেলেঘাটা থানার আধিকারিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে ধ্রুবজ্যোতি কর কলসেন্টারের মালিক। এ ছাড়াও রণজিৎ হালদার মিউল অ্যাকাউন্ট বা ভাড়ার অ্যাকাউন্ট সংগ্রহকারী। বাকি দু’জন জিয়াউল মোল্লা ও বাপন বিশ্বাস, যারা নিজেদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিল জালিয়াতদের। মধ্যমগ্রামের দোলতলার একটি ভুয়ো কল সেন্টার থেকে ঋণ দেওয়ার নাম করে ফোন করা হচ্ছিল। যদিও তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জালিয়াতি। বেলেঘাটার ওই সাইকেল ব্যবসায়ীর টাকার প্রয়োজন ছিল। তাঁকে অত্যন্ত কম সুদে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি হতেই প্রথমে প্রসেসিং ফি হিসাবে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। এর পর ক্রমে কর বাবদ ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা চাওয়া হতে থাকে। তার বদলে তাঁকে অনলাইনে বেশ কিছু ভুয়া নথি পাঠায় জালিয়াতরা। তিনিও ৮০ লাখ টাকার লোভে ৪০ লাখ টাকা জালিয়াতদের একাধিক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। প্রায় মাস দু’য়েক ধরে এই টাকা দিতে থাকেন ওই ব্যবসায়ী। হঠাৎই তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন:
ভুয়ো কল সেন্টারের মালিকও ওই টাকা হাতিয়ে নিজের কল সেন্টার বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। এর পরই ওই ব্যবসায়ী বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মোবাইল নম্বর ও ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিশ উত্তর কাশীপুর ও মধ্যমগ্রামে গিয়ে দু’টি ব্যাঙ্কের সন্ধান পায়। সেখান থেকে জিয়াউল ও বাপনকে ধরার পর তারা জানায়, তাদের মোটা কমিশনের লোভ দেখায় মধ্যমগ্রামের সাইবার জালিয়াতদের ‘এজেন্ট’ রণজিৎ হালদার। তার আসল কাজ হচ্ছে ভাড়ার অ্যাাকউন্ট জোগাড় করে তা সাইবার জালিয়াতদের হাতে তুলে দেওয়া। তার বদলে নিজেও মোটা কমিশন পেত সে। মধ্যমগ্রামের রামকৃষ্ণপল্লি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পরই ধ্রুবজ্যোতি করের সন্ধান মেলে। ভুয়ো কল সেন্টার বন্ধ করার পর সে বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছিল। ফাঁদ পেতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের জেরা করে বাকিদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
