১৯৯০ থেকে বেপাত্তা সেনা জওয়ান স্বামী, ৩৬ বছর পর অপহরণের অভিযোগ দায়ের স্ত্রীর!

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


ছুটি কাটাতে এসেছিলেন কলকাতায়। পরিবারের সঙ্গে দিন কয়েক কাটানোর পর কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামের আবাসন থেকে সেনা জওয়ান রওনা দিয়েছিলেন ডালহৌসি ক‌্যান্টনমেন্টের পথে। কিন্তু কর্মস্থলে আর পৌঁছননি তিনি। এরপর কেটে গিয়েছে ৩৬ বছর। নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। তাঁকে খোঁজা হয়েছিল দেশের বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু পরিবার বা সেনা কর্তৃপক্ষ কেউই খোঁজ পায়নি সেনা জওয়ান এডউইন রজনের। ৩৬ বছর পর স্বামীর সন্ধান পেতে এবার কলকাতা পুলিশের কাছে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করলেন তাঁর স্ত্রী। এখন রজন পরিবার সরশুনা অঞ্চলে থাকলেও যেহেতু তাঁকে পরিবারের লোকেরা ফোর্ট উইলিয়ামের আবাসনে শেষবারের জন‌্য দেখেছিলেন, তাই হেস্টিংস থানায় তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ মামলাও দায়ের করেছে। নতুন করে পুলিশ শুরু করেছে তদন্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, সালটা ছিল ১৯৯০। হিমাচল প্রদেশের ডালহৌসি ক‌্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনা জওয়ান এডউইন রজনের পরিবার থাকত ফোর্ট উইলিয়ামের আবাসনে। তাই ওই বছর বর্ষবরণের দিনগুলি পরিবারের সঙ্গে কাটাতে ছুটি নিয়ে কলকাতায় আসেন এডউইন। অত‌্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ক’টি দিন কাটিয়ে ১৯৯০ সালের ১৮ জানুয়ারি এডইউন রওনা দেন ডালহৌসির দিকে। তখন ছিল না মোবাইল ফোন। তাই পৌঁছনোর খবর ল‌্যান্ডলাইনেই ফোন করে জানানোর কথা ছিল তাঁর। কিন্তু দিন কয়েক পরও স্বামীর কোনও ফোন না আসায় স্ত্রী আরোকিয়া মেরি রজন যোগাযোগ করেন ডালহৌসিতে তাঁর স্বামীর অফিসে। কিন্তু অফিস থেকে তাঁকে জানানো হয়, তিনি অফিসে যোগ দেননি। এতে চাঞ্চল‌্য সৃষ্টি হয় সেনাদের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহকর্মীর সন্ধান শুরু করে সেনা। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁরা সম্ভাব‌্য জায়গায় খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু এডউইনকে আর কোথাও পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী মেরি হেস্টিংস থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। কিন্তু স্বমীর কোনও তথ‌্য না মেলার কারণে ১৯৯৫ সালে মিলিটারি পুলিশকে তদন্ত করার অনুরোধ জানান। মিলিটারি পুলিশের পক্ষে হেস্টিংস থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ‌্যও নেওয়া হয়। কিন্তু এডউইন কোনও যোগাযোগ না করায় ও কর্মস্থলে যোগদান না করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ‘ডেজার্টার’ বলে ঘোষণা করে সেনা।

আরও পড়ুন:

যদিও পরিবারের লোকেদের দাবি, এডইউন পালাননি। তিনি নিখোঁজই হয়েছেন। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর তিনি পুলিশের কাছে স্বামীর অপহরণের মামলা করার অনুরোধ জানান। কিন্তু কোনও ফল না মেলায় এর পাঁচ বছর পর তিনি লালবাজারের দ্বারস্থ হন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। উপরন্তু স্বামীর ব‌্যাপারে পুলিশ সেনাবাহিনীকে কোনও রিপোর্ট না দেওয়ায় তিনি স্বামীর পরিবার পেনশন থেকেও বঞ্চিত হন। স্বামী নিখোঁজের ৩৬ বছর পর পুলিশের কাছে স্ত্রী মেরির দাবি, তাঁর স্বামীকে কেউ অপহরণ করেছে। তারই ভিত্তিতে এত বছর পর তিনি হেস্টিংস থানায় ফের অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। আগে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের না হলেও এবার পুলিশ গুরুত্ব দিয়েই ওই সেনা জওয়ানের অপহরণের মামলা দায়ের করে। পুলিশের মতে, অত বছর আগে এখনকার মতো এত সিসিটিভির সুবিধা ছিল না। আবার কোথাও সিসিটিভি থেকে থাকলেও তার ফুটেজ পাওয়া যাবে না। তিনি ট্রেনে করে হাওড়া থেকে রওনা হয়েছিলেন কি না, বা রওনা হলেও মাঝখানে কোনও স্টেশনে নেমে পড়েছিলেন কি না, ৩৬ বছর পর সেই তথ‌্য পাওয়াও সহজ নয়। তবুও স্ত্রীর আবেদন মেনে ওই সেনা জওয়ান ‘অপহরণে’র তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *