দেখতে সাধারণ হলেও আদতে বিরল এই অদ্ভুত বেগুনিরঙা ফুল। অনুকূল জলবায়ু ছাড়া এ ফুল পাপড়ি মেলতে পারে না। স্বচক্ষে তা দেখতে পাওয়া যেন ঈশ্বরদর্শনের সমান। হয়তো এই হিমালয়ান ফুলের অপেক্ষা করতে করতে সারা জীবনও কেটে যেতে পারে কারও! এ দাবি আমাদের নয়, ভারতের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা সকলেই এ বিষয়ে একমত।
ফুলটির নাম সায়ানান্থাস হুকেরি। ঘণ্টা-আকৃতির এই ফুল, ফুলের Campanulaceae পরিবারের সদস্য। গত ১৫৮ বছরে তা একবারের জন্যও দেখা যায়নি ভারতে। নীল-বেগুনিঘেঁষা এই আকর্ষণীয় ফুল হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জন্মায় সাধারণত। ভারতে শেষবার এই উদ্ভিদের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয় ১৮৬৭ সালে, যখন ব্রিটিশ উদ্ভিদবিদ জোসেফ ডাল্টন হুকার সিকিম অভিযানের সময় তা সংগ্রহ করেন।
আরও পড়ুন:

এই ঘটনার ১৫৮ বছর পর ভারতে ফের দেখা মিলল সায়ানান্থাস হুকেরির। স্বাভাবিকভাবেই ফুলটির পুনরাবিষ্কারকে ভারতের উদ্ভিদবিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। আবিষ্কারটি করা হয়েছে বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে। দলে ছিলেন বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী শুভজিৎ লাহিড়ী, মোনালিসা দাস এবং সুধাংশু শেখর দাশ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাওয়াং জেলার মাগো গ্রামের কাছে চুনা ভ্যালিতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় এক সমীক্ষার চলাকালীন এই বিরল উদ্ভিদের সন্ধান মেলে। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক সংরক্ষণবিষয়ক জার্নাল Oryx-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ৫০টিরও কম পূর্ণবয়স্ক উদ্ভিদ খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো চুনা ভ্যালির অ্যালপাইন তৃণভূমি ও পাথুরে ঢালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে জন্মেছে। এত কম সংখ্যক গাছ পাওয়ায় বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ভারতে এই প্রজাতির ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। উদ্ভিদটির সীমিত সংখ্যা ও নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ বিস্তৃতির কথা মাথায় রেখে গবেষকরা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী ভারতে সায়ানান্থাস হুকেরিকে ‘বিপন্ন’ (Endangered) তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
ভুটান, নেপাল ও চিনের কিছু অংশে পাওয়া গেলেও, ভারতে এটি অত্যন্ত বিরল। অরুণাচল প্রদেশ ‘পূর্ব হিমালয় জীববৈচিত্র্য হটস্পট’-এর অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলে হাজারও এমন বিরল উদ্ভিদ প্রজাতির বাস, যাদের অনেকগুলিই পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। অরুণাচল প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী চৌনা মেইন এই আবিষ্কারকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
