বন্ধ জুটমিলগুলিকে দ্রুত উৎপাদনে ফেরাতে ম্যারাথন বৈঠক শুরু করেছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। লক্ষ্য, ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের ১৮টি বন্ধ জুটমিল চালু করা। সেই লক্ষ্যেই সোমবারের পর মঙ্গলবারও তাঁর ডাকা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বরানগর জুটমিল, জগদ্দল জুট ইন্ডাস্ট্রিজ ও এমকো জুটমিল চালুর বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করবে। এরপর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু হবে। তিনটি মিল খুললে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক কাজে ফিরতে পারবেন।
সোমবার শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং ও শ্রমদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে নৈহাটি জুটমিল নিয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে ৩ জুলাই থেকে মিল চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যেই জগদ্দলের অ্যালায়েন্স জুটমিল খুলেছে। ১ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে কাঁকিনাড়া জুটমিলও। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক বন্ধ জুটমিলে ফের উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু বারাকপুর শিল্পাঞ্চলেই নয়, সোমবার হাওড়ার দাশনগরের ভারত জুটমিল নিয়েও পৃথক বৈঠক করেন অর্জুন সিং। সেখানে শ্রমিকদের বেতন, গ্র্যাচুইটি, পিএফ-সহ সমস্ত আইনগত প্রাপ্য খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, “আমরা আশা করছি ১০ তারিখের মধ্যে ১৮টি জুটমিল খুলে দিতে পারব। তাই জুট কমিশনার, পিএফ, ইএসআই এবং ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হচ্ছে, যাতে সব সমস্যার একসঙ্গে সমাধান করা যায়। শ্রমিকদের যা প্রাপ্য, তা আরও বাড়াতে হবে। তবে তাঁদেরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। শুধু সুবিধা নিলে হবে না, কাজও করতে হবে। একইভাবে মালিকপক্ষও শুধু কাজ করিয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারে না। ইউনিয়ন, ম্যানেজমেন্ট ও শ্রমিক—সব পক্ষকে ভারসাম্য রেখে এগোতে হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
