‘হিন্দু দোকান থেকে বিরিয়ানি খান’, পুজোর মুখে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পোস্টারে তুঙ্গে বিতর্ক

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


পুজোয় বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে। হিন্দু দোকান থেকে কিনুন পুজো সামগ্রী। শিলিগুড়ি জুড়ে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পোস্টারে তুঙ্গে উত্তেজনা। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর।

রবিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির নানা প্রান্তে এমন বিতর্কিত পোস্টার দেখা গিয়েছে। কোনও পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।’

আরও পড়ুন:

Biriyani

আবার কোনও পোস্টারে লেখা, ‘চলুন এবার পুজোয় পুজো সামগ্রী হিন্দু দোকান থেকেই কেনাকাটি করুন।’

Hindu

এই পোস্টারগুলি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে তুঙ্গে উত্তেজনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস। কোনওদিন এমন পোস্টার পড়েনি। এই প্রথমবার এমন পোস্টার দেখে বেশ অবাকই হয়েছেন তাঁরা। কেউ কেউ আবার বলছেন, “এভাবে কাউকে জোর করা উচিত নয়। যার যে দোকান থেকে জিনিস কেনার ইচ্ছা হবে, সেখান থেকেই কিনবে। কোনও নিদান দেওয়া ঠিক নয়।” হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের দাবি, “মাদক থেকে অনলাইন প্রতারণা সব কিছু নিয়েই সচেতনতা বাড়াতে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। অযথা আলাদা করে শুধুমাত্র হিন্দু দোকানির পোস্টার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।”

এই পোস্টার ঘিরে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক মহলেও জোর শোরগোল। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব বলেন, “ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তাই সেখানে এমন পোস্টার সত্যিই ভাবা যায় না। সাধারণ মানুষ দেখুক। তাঁরাই ভাবুক।” শিলিগুড়ির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যও এই পোস্টারের তীব্র নিন্দা করেন। বলেন, “হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কাজই ঘৃণা ছড়ানো। ধর্মে ধর্মে বিভেদ তৈরি করা। জঘন্যতম রাজনীতি। কে কোথা থেকে কী কিনবেন তা কেউ বেঁধে দিতে পারেন না। শিলিগুড়িতে শুধু মারোয়ারি, নেপালিও থাকেন। কেউ যদি বলেন মারোয়ারি, নেপালির দোকান থেকে কিনবেন না। তাহলে শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের কী হবে।” তাঁর দাবি, “হয় পুলিশ কিংবা যারা পোস্টার দিয়েছে তারাই তুলে দিক।” বিজেপি জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, “হিন্দু সনাতনী রীতি অনুযায়ী হালাল করা খাবার খাওয়া যায় না। ধর্ম তো সংস্কৃতিও বটে। তাই না খাওয়াই উচিত। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড থাকাও তো উচিত নয়। সেই তো কোনও এক ধর্মকেই জোর দেওয়া হল।” বলে রাখা ভালো, এবারের দুর্গাপুজোর বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই আমিষ নিরামিষ নিয়ে চলছে জোর চাপানউতোর। বাংলায় দাঁড়িয়ে বাগেশ্বর বাবার নিদান ঘিরেও বিতর্ক দানা বাঁধে। এবার তারই মাঝে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দেওয়া পোস্টার ঘিরেও তুমুল উত্তেজনা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *