বাংলার দুর্গাপুজোর দীর্ঘদিনের আপ্তবাক্য ধর্ম যার যার-উৎসব সবার নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তবে পুজোয় অন্য ধর্মের মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি হয়নি। সেটা হচ্ছে মহারাষ্ট্রের। নবরাত্রিতে যে গরবা এবং ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান হয়, তাতে মুসলিমদের ঢুকতে দেওয়া যাবে না। একপ্রকার ফতোয়া দিয়ে দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহারাষ্ট্র শাখা।
তাদের দাবি, গরবা নাচের অনুষ্ঠানে একান্তই হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান। এতে অ-হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রবেশ করলে, অনুষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট হতে পারে। মহারাষ্ট্র বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক এবং মুখপাত্র শ্রীরাজ নায়ার বলছেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।” তাঁর যুক্তি অনুষ্ঠানের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখতেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা প্রয়োজন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মনে করছে, “নবরাত্রি শুধু নাচ-গানের অনুষ্ঠান তো নয়। এটা হিন্দুদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেটার গাম্ভীর্য এবং গুরুত্ব কোনওভাবেই নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।”
আরও পড়ুন:
কিন্তু কীভাবে আটকানো যাবে অহিন্দুদের প্রবেশ। তাদের প্রস্তাব, এবার থেকে যে কোনও ডান্ডিয়া বা গরবার অনুষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে বসানো হোক নিরাপত্তারক্ষী, যারা অনুষ্ঠানে প্রবেশকারীর আধার কার্ড পরীক্ষা করে দেখবে। আধার কার্ড দেখে চিহ্নিত করা হবে কারা হিন্দু, আর কারা নন। শুধু তাই নয়, গরবা বা ডান্ডিয়ার অনুষ্ঠানে ঢুকতে গেলে কপালে তিলক লাগানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাঁদের কপালে তিলক থাকবে না, তাঁরাও প্রবেশ করতে পারবেন না। হিন্দু উৎসবে অ-হিন্দুদের ছোঁয়াচ বাঁচাতে এই ঘোষণায় হতভম্ব বিরোধীরা। তাঁরা উৎসবে এভাবে ধর্মীয় বিভাজনের জন্য দুষছেন আরএসএস-বিজেপির মানসিকতাকে।
দিন দুই আগেই আমেরিকায় দাঁড়িয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলে দিয়েছেন, “যে সব হিন্দু মনে করে ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তাঁরা হিন্দুই নন।” সে প্রসঙ্গ মনে করিয়ে প্রশ্ন করা হলে হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বলছেন, “আমরা কোনওভাবেই মুসলিমদের বিরোধী নই। আমরা পুরোপুরি সৌহার্দ্য এবং সংস্কৃতির বিরোধী। মুসলিমরা এমনিতেও মূর্তিপুজোর বিরোধী। নবরাত্রির অনুষ্ঠানে তাঁরা যোগ দিতে পারেন না।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
