মার্কিন-ইরান সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীতে কোনও ধরনের সামরিক সেনা মোতায়েন করতে রাজি নয় দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার একথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। তাঁর সাফ কথা, মধ্যপ্রাচ্যে তিনি এমন কোনও পদক্ষেপ করতে রাজি নন যা দক্ষিণ কোরিয়াকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে সামরিক সহায়তার জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবু তিনি যে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন তা পরিষ্কার করে দিলেন মিউং।
তবে সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, সেনা না পাঠালেও বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল পরিবহনের রুট নিরাপদ রাখতে ন্যূনতম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সিওল। আসলে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের আমদানিকৃত তেলের ৬৩ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এহেন অবস্থায় ট্রাম্পের ‘রক্তচক্ষু’ উপেক্ষা করেই নিজেদের অবস্থানে স্থির থাকতে চাইছে সিওল।
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মজবুত ভিত্তি রয়েছে দুই দেশের সম্পর্কে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মসনদে প্রত্যাবর্তনের পর ইরান সংঘাত এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে সামরিক জোট ও যৌথ মহড়া সংক্রান্ত জটিলতাও একটা ফ্যাক্টর। গত আগস্টে ট্রাম্প আচমকাই পেন্টাগনকে দুই দেশের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। জানিয়ে দেন, এটা ‘অত্যধিক ব্যয়বহুল’। তাঁর এহেন নির্দেশকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘উসকানিমূলক’ সংকেত হিসেবে অভিহিত করছে ওয়াকিবহাল মহল। এছাড়াও ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি বলেও সিওলকে আগেই তোপ দেগেছেন ট্রাম্প। আজকের এই ঘোষণার পর আমেরিকা কী মন্তব্য করে সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
