সুইজারল্যান্ড মানেই চিজ! দেশটির নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৪৫০-রও বেশি ধরনের চিজের দীর্ঘ ঐতিহ্য। সেই সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের হাতে এবার পৌঁছল ভারতের তিন বিশেষ ধরনের আর্টিজানাল চিজ—‘গুলমার্গ’, ‘কোনার্ক’ এবং ‘ইয়েওর’(Gulmarg, Konark and Yeoor)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই তিন চিজ তাঁকে উপহার দেন। মুম্বইয়ের পুরস্কারজয়ী চিজ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ইলেফথেরিয়া চিজ’-এর হাতে তৈরি এই তিন চিজের প্রতিটিই ইউরোপীয় চিজ তৈরির ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত, তবে তাতে রয়েছে ভারতীয় স্বাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।

আরও পড়ুন:
গুলমার্গ: হৃদয় আকৃতির ‘ব্রি চিজ’
ফরাসি ব্রি চিজের আদলে তৈরি ‘গুলমার্গ’ তৈরি করা হয় পাস্তুরাইজড গরুর দুধ দিয়ে। নামের মতোই এর আকৃতিও বেশ নজরকাড়া—হার্ট শেপ বা হৃদয়ের মতো। বাইরে থাকে হালকা সাদা, নরম ও ফুলের মতো স্তরযুক্ত ‘ব্লুমি রাইন্ড’। ভিতরের অংশ অত্যন্ত নরম ও মসৃণ, যার স্বাদে রয়েছে মাখনের মতো ক্রিমি ভাবের পাশাপাশি মাশরুম ও মাটির গন্ধের সামান্য ছোঁয়া।
এই চিজকে সাধারণত ২-৩ সপ্তাহ ধরে জারিত করা হয়। আন্তর্জাতিক স্তরেও ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে গুলমার্গ। ২০২৬ সালের ‘মানডায়াল ডো কুয়েজো ডো ব্রাসিল’-এ এটি পেয়েছে ‘সুপার গোল্ড’ পুরস্কার।

কোনার্ক: ফরাসি ‘টোমে’ ভারতীয় ছোঁয়া
কোনার্ক তৈরি হয়েছে ফরাসি টোম চিজের আদলে। এর বাইরের অংশ তুলনামূলক রুক্ষ, ভিতরের অংশ নরম ও মসৃণ। এর স্বাদে রয়েছে ‘আরদি নোট’, অর্থাৎ হালকা মাটি-মাটি গন্ধ। এই চিজের স্বাদ মিষ্টি নয়, বরং সামান্য টক। কোনার্ক চিজ ২০২৩ সালে নরওয়েতে ‘ওয়ার্ল্ড চিজ অ্যাওয়ার্ডস’-এ সোনা এবং ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডে রুপো জয় করেছে। রান্নাতে সহজেই ব্যবহার করা যায় এই চিজ। ভালোভাবে গলিয়ে, তা গ্রিলড চিজ স্যান্ডউইচ, সাওয়ারডো টোস্ট বা অন্যান্য বেকড ডিশে ব্যবহার করা হয়।

ইয়েউর: ‘সুইস গ্রুয়ের’ থেকে অনুপ্রাণিত
তিনটির মধ্যে ইয়েওর সবচেয়ে বেশি আলাদা। সুইস গ্রুয়ের চিজের ধাঁচে ইয়েউর চিজকে দীর্ঘ আট-নয় মাস ধরে জারন করা হয়। এর স্বাদ কিছুটা বাদামের মতো বলা চলে। আর একই সঙ্গে পাওয়া যায় হালকা মিষ্টি ও হার্বাল স্বাদ। তবে ইয়েউরকে বাকি সবের থেকে অনন্য করে তুলেছে এর ভারতীয় বৈশিষ্ট্যটি। চিজটির রাইন্ডে বিপুল পরিমাণে শুকনো গোলাপের পাপড়ি ও মৌরি দেওয়া থাকে। এটি ভালোভাবে গলিয়ে ফন্ডু, গ্রিলড ডিশ কিংবা অন্যান্য গরম খাবারে ব্যবহার করা যায়।
গুলমার্গ, কোনার্ক এবং ইয়েওর— ফরাসি ব্রি, টোম বা সুইস গ্রুয়ের-এর মতো বিখ্যাত চিজ থেকে অনুপ্রেরণা নিলেও এগুলি নিছক অনুকরণ নয়। প্রতিটি চিজের নিজস্ব স্বাদ, জারন পদ্ধতি ভিন্ন। সুইজারল্যান্ডের মতো চিজ-সমৃদ্ধ দেশে এই তিন ভারতীয় চিজ সাধারণ সৌজন্য উপহারের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে ভারতীয় কারিগরদের নিজস্ব পরিচিতি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
