সিকিমেও বন্ধ রাস্তা, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট

সিকিমেও বন্ধ রাস্তা, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, পেলিং (সিকিম): কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ কি সত্যিই লঘু করে দিতে পারে আতঙ্ককেও? নাকি নীল পাহাড়ের পাকদণ্ডি বেয়ে ওঠা রাস্তাটায় আলতো করে ছুঁয়ে যাওয়া মেঘগুলিই ভুলিয়ে দেয় সব উদ্বেগ? না হলে প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড়-সমতল তছনছ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়েও পশ্চিম সিকিমের পেলিংয়ে বসে হাওড়ার বৃদ্ধ তারকনাথ মিত্র হাসিমুখে কী করে বলতে পারেন, ‘৭ তারিখ ফিরব। শুনলাম ধস নেমেছে। দেখি কী হয়! আশা করছি রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ কেমন উপভোগ করছেন পেলিংয়ের সৌন্দর্য? হাসিমুখে বৃদ্ধের জবাব, ‘দারুণ!’ আর তারকনাথের সহধর্মিনী কাজল মিত্র তখন যেন হাবুডুবু খাচ্ছেন কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রেমে। কাজল বলছিলেন, ‘দার্জিলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সোনালি রূপটা আগে দেখেছি। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘার তুষারশুভ্র রূপ যে এত মনোমুগ্ধকর, আগে বুঝিনি কখনও।’

প্রবল বৃষ্টিতেও পেলিংয়ের অলিগলিতে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। তাঁদের একটা বড় অংশই বাঙালি। শনিবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। বাঙালি বাধা মানেনি। ছাতা মাথায় বেরিয়ে পড়েছে পাহাড়ের বুক চিরে। স্কাইওয়াকে উপচে পড়া ভিড়। কাঞ্চনজঙ্ঘা ওয়াটার ফলসে ভিড়। আছড়ে পড়া জলরাশির গর্জন ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের চিলচিৎকার, ‘ওই দ্যাখ! ওই দ্যাখ!’ এসবের মধ্যেই বর্ধমানের কাঞ্চন মণ্ডল বললেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছে। বিপর্যয়ের খবরও পাচ্ছি। তবে সিকিম ট্যুর ভীষণ উপভোগ করছি।’

শনিবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন পেলিং অন্ধকারে ডুবে। রবিবার সকাল আটটা পেরোতে বৃষ্টি থামল। পাহাড়ের বুক থেকে সরে গেল মেঘ। মাথায় তুষারের টুপি পরে রুপোলি কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দিল। আবহাওয়া ভালো হতেই কেউ ছুটলেন নামচি। কেউ রাবাংলায়। গাড়িচালকরা রাস্তার খোঁজ নিতে নিতে এগোচ্ছেন। গাড়িচালক ব্রিনেশ তামাং বললেন, ‘রাবাংলা যাওয়ার তিনটা রাস্তাতেই ধস নেমেছে। কিউজিং থেকে অনেক গাড়ি ফিরে এসেছে। উপায় না হলে কিন্তু ফিরে আসতে হবে।’ ঝুঁকি নিয়েই এগোতে হল। তখনও বড় বড় পাথর খসে পড়ছে লেক্সেপ, রেসি, সিকিব রোডে। সরাসরি রাবাংলা যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। নামচি হয়ে ঘুরপথে চলল গাড়ি। নামচি শহরের মুখেই বিরাট ধস। সকাল থেকে ধস সরানোর কাজ চলছিল। বেলা দুটো নাগাদ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক। তবে তখনও আর্থমুভার পাথর সরিয়ে চলেছে। গ্যাংটক থেকে দীপক সূত্রধর ফোনে বললেন, ‘এখানে তো পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ছে। ওঁরা লাভা লোলেগাঁও হয়ে ঘুরপথে আসছেন।’

এরই ফাঁকে নিউজ পোর্টালে চোখ পর্যটকদের। পাহাড় ও সমতলজুড়ে অনেক মৃত্যুর খবর। কারও কারও ভ্রূতে দুশ্চিন্তার ছায়া। রাবাংলা বাজারে হোটেলকর্মীরাই বললেন, এখনও পর্যন্ত সমতলে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। যাদবপুরের শুভজিৎ নন্দী বলছিলেন, ‘সব খবরই পাচ্ছি। তবে সিকিমকে উপভোগ করছি দারুণভাবে।’ বুদ্ধ গুম্ফার সামনে বসেই চার বোন। চারজন আগরতলা থেকে এসেছেন সিকিম ভ্রমণে। ওঁদের মধ্যে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা সতী দেওয়ানের বয়স ৭৯ বছর।

চাকমা সম্প্রদায়ের হলেও একেবারে ঝরঝরে বাংলায় হাসিমুখে সতী বললেন, ‘দুর্যোগ তো হয়েই থাকে। এত দুশ্চিন্তা করলে কী আর চলে!’ একই কথা সতীর বোন বছর সত্তরের অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নীতি দেওয়ানেরও। বললেন, ‘বেড়াতে গেলে কি আর ভয় করলে চলে?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *