পুজোয় চারটে ছবির মধ্যে একটায় আপনি রয়েছেন। বক্স অফিসে লড়াই কতটা জমবে?
– ‘একেন’ বক্স অফিসে সফল এটা প্রমাণিত। আট থেকে আশি সকলেই ‘একেন’ দেখতে ভালোবাসেন। দর্শক একটা ভালো ছবির মধ্যে যা যা চান ‘একেনবাবু’র মধ্যে সবই আছে। আমার আশা আগের ছবিগুলোর মতো এবারেও ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে দর্শক।
‘একেন’ যেহেতু সফল, তাই ‘কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ কি একটু এগিয়ে শুরু করছে?
– ছবিতে আমার যা যা কাজ সেগুলো আমি মন দিয়ে করেছি। ছবির প্রচারও করছি। বাকিটা দর্শকের হাতে ছাড়লাম। আমি এই বিষয়গুলো খুব একটা বুঝিও না, মাথা ঘামাতে চাই না।
আরও পড়ুন:
“আমার ছেলের খুব পছন্দের ‘একেনবাবু’। ও খুব খুশি আমি ‘একেন’ ইউনিভার্সে যোগ দিয়েছি বলে।”
‘একেন ফ্র্যাঞ্চাইজি’র অংশ হয়ে কতটা উপভোগ করলেন?
– দারুণ এনজয় করেছি। একেন খুব পছন্দের বিষয়। একটা স্পেশাল বিষয় হল, আমার ছেলের খুব পছন্দের ‘একেনবাবু’। ও খুব খুশি আমি ‘একেন’ ইউনিভার্সে যোগ দিয়েছি বলে। একবার যখন ভিলেন হয়েছি, তখন আবার ‘একেন’-এ ভিলেন হয়ে ভেসে উঠতে পারি, সেই সম্ভাবনাও রয়ে গেল।
পর্দায় ভিলেন হতে বেশি ভালো লাগে?
– আমি নেগেটিভ চরিত্র করতে বেশি ভালোবাসি। অভিনেতারা সব সময় শেড খোঁজেন। আর ভিলেনের চরিত্রের মধ্যে বিভিন্ন রকমের শেড থাকে। তাই এই চরিত্রটা খুবই এনজয় করেছি।

অনির্বাণ চক্রবর্তী, রাইমা সেনের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
– খুবই ভালো অভিজ্ঞতা। অনির্বাণের সঙ্গে এটা আমার চতুর্থ ছবি। ‘একেন’ চরিত্রটা অনির্বাণ এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে যা অসাধারণ। আমার খুব পছন্দের এবং ভীষণ শক্তিশালী একজন অভিনেতা অনির্বাণ। চরিত্ররাই যে আসল হিরো সেটা এখন বার বার শোনা যায়– অনির্বাণের ‘একেন’ তা প্রমাণ করেছে। রাইমাও দারুণ। জয়দীপদার সঙ্গে আমি ‘অচিন্ত্য আইচ’ করি। পুরো টিমটাই খুব ভালো। প্রথমবার ‘একেন’-এর অংশ হয়ে আমিও যেন এর জনপ্রিয়তার অংশীদার হলাম।
“আমি সেলিব্রিটি নই। আমি একজন অভিনেতা। আমি চাই অভিনেতা হিসাবেই আমাকে মানুষ চিনুক।”
আপনি খুব ভ্রমণপ্রিয়। শুটিংয়ের ফাঁকে কতটা কেরল এক্সপ্লোর করলেন?
– কেরলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। আমি অনেক আগে একবার কেরলে গিয়েছিলাম। আমরা ভরা বর্ষায় কেরলে শুট করেছি। তখন আশ্চর্য সুন্দর হয়ে রয়েছে গোটা কেরল। পর্দায় একেন টিমকে দেখতে যতটা সুন্দর লাগবে, ততটাই সুন্দর লাগবে কেরলের দৃশ্য দেখতে। একটাই আফসোস আমার কেরলের অনেক লোকেশনে শুট ছিল না। আরেকটু বেশি এক্সপ্লোর করলে ভালো লাগত। তবে ফাইনালি খুব ভালো লেগেছে।
আপনি সোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয়। সপাট জবাব দেন। এ ক্ষেত্রে সেলিব্রিটি ইমেজ ধরে রাখার ভাবনা ভাবায়নি?
– প্রথমত, আমি সেলিব্রিটি নই। আমি একজন অভিনেতা। আমি চাই অভিনেতা হিসাবেই আমাকে মানুষ চিনুক। সর্বোপরি একজন মানুষ হিসাবে যা যা করার আমি সেগুলোও করব। আমার কাছে বিষয়টা খুব সাধারণ। যাঁরা আমার প্রশংসা করছেন বা যাঁরা আমাকে নেগেটিভ কমেন্ট করেন কোনওটাই আমার মধ্যে প্রভাব ফেলে না। আমি সেটাই করি, যেটা আমার পছন্দ।
“সোশাল মিডিয়ার অনেক আগে থেকে বন্ধুদের আড্ডার আসরেও আমার মন্তব্য নিয়ে চর্চা হত।”
আপনার করা কমেন্ট নিয়ে তুমুল চর্চা হয়। মিমও হয়। কখনও বাংলা ছবির সংলাপ লেখার প্রস্তাব এলে রাজি হবেন?
– (হাসি) না মনে হয়। সংলাপ বলার ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় ইম্প্রোভাইজ করি। সেটা কিছু ক্ষেত্রে হিটও হয়ে যায়। সেরকম অভিনয় করার সময় ইন্সট্যান্ট কিছু এলে সেটা করব। সোশাল মিডিয়ার অনেক আগে থেকে বন্ধুদের আড্ডার আসরেও আমার মন্তব্য নিয়ে চর্চা হত।

গোয়েন্দা গল্পের ওপর এখনও বাঙালির বাড়তি আবেগ জড়িয়ে আছে বলে মনে করেন? যে কারণে গোয়েন্দা গল্প নিয়ে ছবি তৈরি হলে দর্শক বেশি পছন্দ করেন।
– এটা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। গোয়েন্দা গল্প যেরকম মানুষ পছন্দ করেন, তেমন অনেক গোয়েন্দা ছবি আসে আবার চলেও যায়। আসলে দর্শক ভালো গল্প, বিনোদন খোঁজে। সেটা গোয়েন্দা গল্পও হতে পারে আবার নাও হতে পারে।
আপনার জীবনযাপনে কোনও বাহুল্য নেই। তারকা হয়েও মাটির কাছাকাছি থাকতেই স্বচ্ছন্দ?
– আমি যেভাবে স্বচ্ছন্দ সেভাবেই জীবন কাটাই। আমি আমার জীবনটা আনন্দ করে বাঁচছি। কোনও কম্প্রোমাইজ করছি না।
“টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা সকলেই উন্নতি চান। অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলোতে অনেক কাজ করার আছে…”
আপনার এবং আপনার স্ত্রী অপরাজিতার বন্ডিং অসাধারণ। এই বিশ্বাস হারানোর সময়ে আপনাদের সম্পর্ক জমাট থাকার মূল মন্ত্র কী?
– দু’জন মানুষের যে কোনও সম্পর্ক– সেটা বন্ধুত্ব হতে পারে, দাম্পত্য সম্পর্ক হতে পারে, সে ক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস, সম্মান সবটা মিলিয়েই তৈরি হয়। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই।
টলিউডের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করেন?
– যে কোনও ক্ষেত্রেই উন্নতি কাম্য। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা সকলেই উন্নতি চান। অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলোতে অনেক কাজ করার আছে, আমরা চাইলেই সেগুলো করতে পারি।
সম্প্রতি এসআরএফটিআই ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বার বার মেধা ও শিল্পীমননে আঘাতের ফলে সমাজে কতটা প্রভাব পড়তে পারে?
– মানুষ কিন্তু সব কিছুর ওপর নজর রাখেন এবং তাঁর বোধবুদ্ধি দিয়ে বিচার করেন। মানুষ যেহেতু কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ নন, তাই এই ঘটনাগুলো দেখার সময় সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব সমাজে অবশ্যই পড়ে। সমাজে অস্থিরতা বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে রাজনীতির বড় ভূমিকা থাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
