সত্তরেও ইন্দ্রলুপ্ত ছাপিয়ে ফিরবে চুলের বাহার! বনি কাপুরের দেখানো পথে সত্যিই সম্ভব হবে অসম্ভব?

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


বয়সের সঙ্গে চুল পাতলা হওয়া, কপালের দু’পাশ থেকে চুলের রেখা পিছিয়ে যাওয়া বা মাথায় টাক পড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু বয়স ৭০ পেরলেও কি সেই হারানো চুল ফিরে পাওয়া সম্ভব?

বলিউডের প্রযোজক বনি কাপুরকে দেখে প্রশ্নটা উঠতেই পারে। ৬৮ বছর বয়সে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়ে চেহারায় কার্যত ভোলবদল এনেছিলেন তিনি। মাথায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল প্রায় ৬৬০০টি গ্রাফট। সেই সময় তাঁর নতুন লুক নিয়ে কম চর্চা হয়নি।

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি ফের আলোচনায় বনি কাপুরের এই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট। এক টক শোয়ে বাবা সম্পর্কে এক মজার তথ্য ফাঁস করেন জাহ্নবী কাপুর ও অর্জুন কাপুর। তাঁদের দাবি, নিজের পকেটের টাকা খরচ করে নয়, বরং একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসাবেই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছিলেন বনি। বাবার নতুন চেহারার প্রচারে মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানারও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান অর্জুন।

boney kapoor hair transplant at 70 safety risks and eligibility
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের পর। ছবি: সংগৃহীত

তবে তারকার চুলের নতুন লুক বা ব্র্যান্ডের প্রচারের বাইরেও এই ঘটনা সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যপ্রশ্ন। বয়স ৭০ হলেও কি হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানো যায়? এই বয়সে অস্ত্রোপচার করালে শরীরের উপর কতটা চাপ পড়ে? আদৌ কি প্রত্যেকেই এই পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত?

বয়স নয়, জরুরি শারীরিক সক্ষমতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধা নয়। অর্থাৎ, ৭০ বছর বয়স হলেই যে এই অস্ত্রোপচার করানো যাবে না, এমনটা নয়। তবে এই বয়সে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, ৭০ বছর বয়সেও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট নিরাপদ হতে পারে। তবে তার জন্য রোগীকে শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে হবে এবং মাথার পিছনে বা দু’পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ চুল থাকতে হবে। কারণ, এই পদ্ধতিতে মাথার যে অংশে চুলের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি, সেখান থেকেই চুলের গোড়া বা ফলিকল সংগ্রহ করে টাক পড়া অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়।

boney kapoor hair transplant at 70 safety risks and eligibility
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের আগে। ছবি: সংগৃহীত

কী কী পরীক্ষা জরুরি?
বয়স বাড়লে শরীরের ক্ষত সারিয়ে ওঠার ক্ষমতা, ত্বকের অবস্থা এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই শুধু মাথায় পর্যাপ্ত চুল রয়েছে কি না, তা দেখেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, মাথার ত্বকের অবস্থা, চুল পড়ার ধরন এবং অস্ত্রোপচারের পর শরীর কতটা দ্রুত সেরে উঠতে পারবে, সব কিছুই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর আগে চিকিৎসকের কাছে নিজের সম্পূর্ণ শারীরিক অবস্থার কথা জানানো জরুরি। কারণ, শেষ পর্যন্ত বয়সের সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল শরীর অস্ত্রোপচারের ধকল নিতে পারবে কি না। বনি কাপুরের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সফল হয়েছে বলে সবার ক্ষেত্রেই যে একই ফল মিলবে, তা নয়। তাই তারকার নতুন চুল দেখে উৎসাহিত হয়ে সিদ্ধান্ত নয়, আগে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *