শুধু পিওকে নয়, নোয়াখালি-চট্টগ্রামও পুনরুদ্ধার করতে হবে! ফের বিতর্কে নিশিকান্ত দুবে

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের একাংশ নিয়ে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবি তুলে একসময়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। সে খুব বেশিদিন আগেকার কথা নয়, খুব বেশি হলে বছর দুয়েক। তারপর তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্নে তোলার অভিযোগ এবং লোকসভা থেকে বরখাস্তের মূল কাণ্ডারী হিসেবে বিতর্কের জল গড়িয়েছিল আরও খানিকটা। এবার সেই ‘বিতর্কিত’ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেই নয়া দাবি করলেন। এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, শুধু পাক-অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে নয়, এবার নোয়াখালি, চট্টগ্রাম, সিলেটও পুনরুদ্ধার করার সময় এসেছে। এপ্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরুর উপর দায় চাপিয়ে তাঁর অভিযোগ, নেহরুর জন্যই ভারতের উত্তর-পূর্ব লাগোয়া এসব জায়গা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দখলে চলে গিয়েছিল। তা ফিরিয়ে আনলেই নেহরুর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হবে বলে মত সাংসদের।

নোয়াখালি, চট্টগ্রাম ও সিলেট বাংলাদেশের তিন জেলা, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল লাগোয়া। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীরবিক্রম সিংহ এই তিন জেলাকে নিজেদের অধীনে রাখার কথা বলেছিলেন নেহরুকে। কিন্তু নেহরু তা অগ্রাহ্য করে তা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেন, এমনই উল্লেখ রয়েছে ইতিহাসে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বক্তব্য, ‘‘ত্রিপুরার রাজা সেসময় নেহরুকে বলেছিলেন, ‘এটি আমার রাজ্য। এটি ভারতের অংশ থাকবে, পাকিস্তানের অংশ হবে না কি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে – সেই সিদ্ধান্ত আমি নেব।’ নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর – এই তিনটি অঞ্চল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ত্রিপুরার তখন নাম ছিল তিপ্রা নামে পরিচিত ছিল। সেখানকার রাজা লাগাতর নেহরুর নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। নোয়াখালি, সিলেট ও চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল।” কিন্তু সেসময় বীরবিক্রম সিংহের দাবি অমান্য করার ফলে আজ চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ভারতের হাতছাড়া এবং তা দেশের উত্তর-পূর্বাংশের উন্নতির পথে বাধা হয়েছে বলে মত নিশিকান্তের।

আরও পড়ুন:

আর সেই যুক্তিতেই তাঁর দাবি, ‘‘আজ উত্তর-পূর্ব ভারত ‘পিছিয়ে পড়া অঞ্চল’ বলে কারও মনে হয়, বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকে থাকে, তার একমাত্র কারণ, ভারতের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর না থাকা। তাই এখন চট্টগ্রাম, নোয়াখালি এবং সিলেট পুনরুদ্ধার করার সময় এসেছে।’’ ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার সাংসদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতাও শুরু হয়েছে যথারীতি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, এসব মন্তব্য করে কূটনৈতিক স্তরে জটিলতা বাড়িয়ে তুললেন বিজেপি সাংসদ। এমনিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে এই মুহূর্তে ভারতের সম্পর্ক মসৃণ হতে হতেও হচ্ছে না। তারউপর এসব মন্তব্য তিলকে তাল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *