শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: কেন্দ্রীয় সরকার ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক চওড়ার দায়িত্ব ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল)-কে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। যদি এনএইচআইডিসিএল জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব পায় তাহলে গোটা ৩৮ কিমি রাস্তা ২৬.৬ মিটার অথবা তার থেকে বেশি চওড়া হতে পারে। সেটা হলে এই সড়কের মাঝে থাকা লাটাগুড়ি ও গরুমারার জঙ্গলে বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বিচারে গাছ কাটা হলে আবহাওয়ায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। সেকারণে লাটাগুড়ি ও গরুমারার জঙ্গলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এনভায়রনমেন্ট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। কলকাতা বিদ্যাসাগর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা পরিবেশবিদ ডঃ তপন মিশ্র বলেন, ‘ইউনাইটেড নেশন এনভায়নমেন্ট প্রোগ্রাম পৃথিবীতে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট চিহ্নিতকরণ করেছে। এরমধ্যে ভারতবর্ষের মধ্যে চারটি হটস্পট রয়েছে। এই চারটির মধ্যে নর্থ-ইস্টে একটি হটস্পট রয়েছে যার মধ্যে গরুমারা ও লাটাগুড়ির জঙ্গল পড়ে। এর আগেও ২০১৮ সালে রেলওয়ে ওভারব্রিজ তৈরির জন্য লাটাগুড়ি জঙ্গলে পাঁচ শতাধিক গাছ কাটা হয়েছিল। বায়োডাইভারসিটি হটস্পটে এভাবে লাগাতার গাছ কাটা হলে যেমন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ওপরে ব্যাপক প্রভাব পড়বে তেমনি মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বাড়বে।’
ময়নাগুড়ি বিডিও অফিস মোড় থেকে চালসা গোলাই পর্যন্ত ৩৮ কিমি ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। সম্প্রতি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই অনুযায়ী সড়ক মাপার কাজ শুরু হয়। তবে এর মাঝে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাত থেকে সড়ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের (এনএইচআইডিসিএল) হাতে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ময়নাগুড়ি, লাটাগুড়ি, চালসা ও মঙ্গলবাড়ি বাজার এলাকায় জাতীয় সড়ক সাত মিটারের জায়গায় ২৬.৬ মিটার এবং অন্য জায়গায় ১০ মিটার চওড়া করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এনএইচআইডিসিএল জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব পেলে রাস্তা ২৬.৬ মিটার বা তার থেকে বেশি চওড়া হতে পারে। তবে এসব এখন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দিব্যেন্দু দেবের বক্তব্য, ‘বন ও বন্যপ্রাণীকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসা। এই দুইয়ের ওপর আঘাত এলে তা পরোক্ষভাবে পর্যটন ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই আমাদের দাবি, জঙ্গলের গাছ কাটা বাদ দিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ হোক।’
জঙ্গলের এই রাস্তা বন্যপ্রাণীদের করিডর। মাঝেমধ্যে এই পথে গাড়ির ধাক্কায় বুনোদের মৃত্যু হয়। সড়ক চওড়া হলে সেখানে গতির বলি আরও বেশি হবে বলে পরিবেশবিদদের অনুমান।
ইতিমধ্যে সড়ক চওড়া করার জন্য গাছ কাটার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পরিবেশপ্রেমীদের উত্তরবঙ্গের যৌথ মঞ্চ আন্দোলনে নেমেছে। মঞ্চের আহ্বায়ক অনির্বাণ মজুমদারের কথায়, ‘সড়ক সম্প্রসারণের জন্য নির্বিচারে গাছ কাটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামা হয়েছে। আগামীতে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে।’
