‘লজ্জা! তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে বিজেপির প্রয়োজন কেন?’, মৌলবীদের তোপ জাভেদ আখতারের

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


ঈশ্বরে তিনি বিশ্বাসী নন। নিজেকে বরাবর ‘নাস্তিক’ বলেই দাবি করে এসেছেন জাভেদ আখতার। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে বলেছিলেন, “আল্লাহর চেয়ে মোদি ভালো…।” যার জেরে ‘মুসলিমবিদ্বেষী’ কটাক্ষের শিকারও হতে হয়েছে প্রবীণ অভিনেতাকে। পালটা নিন্দুক, সমালোচকদের মার্জিত শব্দচয়নেই ‘সবক’ শিখিয়েছেন বরাবর। এবার ‘তিল তালাক’ নিষিদ্ধকরণ নিয়ে মৌলবীদের তোপ দাগলেন জাভেদ আখতার। বর্ষীয়ান গীতিকারের প্রশ্ন, “তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে বিজেপির প্রয়োজন কেন?”

“তিন তালাক নিষিদ্ধ করার জন্য আপনাদের বিজেপির প্রয়োজন হল কেন? এটা তো লজ্জার বিষয়। এটা কেমন ধর্মনিরপেক্ষতা?”

আরও পড়ুন:

সংখ্যালঘুদের নিয়ে সোচ্চার হওয়া ‘ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী’ এবং মৌলবীদের তীব্র সমালোচনা করে জাভেদ আখতারের প্রশ্ন, মুসলিম সম্প্রদায়ের ভিতর থেকে সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে কেন ‘তাৎক্ষণিক তিন তালাক’ প্রথা বাতিলের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হল? জাভেদের মন্তব্য, “১৯৩৭ সালে মুসলিম পার্সোনাল ল’ চালু হয়েছিল। আমরা ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পেয়েছি। তাহলে আপনারা এতদিনে কেন কিছুই পরিবর্তন করতে পারলেন না? তিন তালাক নিষিদ্ধ করার জন্য আপনাদের বিজেপির প্রয়োজন হল কেন? এটা তো লজ্জার বিষয়। এটা কেমন ধর্মনিরপেক্ষতা?”

Javed Akhtar says Hindus speak openly but Muslim do not including Asaduddin Owaisi
জাভেদ আখতার। ছবি: সোশাল মিডিয়া

“খুব দুঃখজনক যে মুসলিমদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই নিজেদের সম্প্রদায়ের সামাজিক সমস্যা ও ত্রুটিবিচ্যুতির বিরোধিতা করে। আগে নিজের ঘর ঠিক করুন, তারপর অন্যদের সমালোচনা করবেন।…”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট ‘শায়রা বানু বনাম ভারত সরকার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ৩:২ ব্যবধানে তাৎক্ষণিক তিন তালাককে (তালাক-এ-বিদত) ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘স্পষ্টতই স্বেচ্ছাচারী’ বলে রায় দেয়। এই রায়ের পর এনডিএ সরকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ‘মুসলিম নারী (বিবাহ বিষয়ক অধিকার সুরক্ষা) আইন’ পাস করে এই প্রথাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে। সেপ্রসঙ্গ উল্লেখ করেই জাভেদ আখতার জোর দিয়ে বলেন যে, বহিরাগত সমালোচনার আগে সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ সংস্কার হওয়া জরুরি।

প্রবীণ গীতিকারের সংযোজন, “এটা খুব দুঃখজনক যে মুসলিমদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই নিজেদের সম্প্রদায়ের সামাজিক সমস্যা ও ত্রুটিবিচ্যুতির বিরোধিতা করে। আগে নিজের ঘর ঠিক করুন, তারপর অন্যদের সমালোচনা করবেন। আমি একজন নাস্তিক। কিন্তু বাস্তবটা হল, আমি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। তাই, অন্য কারও দিকে আঙুল তোলার আগে আমার নিজের সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলো সমাধান করাই আমার প্রধান অধিকার ও দায়িত্ব।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *