লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো ছিলই। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে যুবসাথীও। রাজ্য সরকারের এই দুই সামাজিক প্রকল্প নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিজেপির কপালে। এই দুই প্রকল্প যে তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্টতই দৃশ্যমান। জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রকল্পগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই রাজ্যে সার্ভে টিম নামিয়ে সমীক্ষা শুরু করে দিয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, সমীক্ষা দলের প্রতিনিধিরা জেলা ধরে ধরে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে। প্রকল্পগুলি নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি, রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তন এবং ভোটের সিদ্ধান্তে তার প্রভাব-সব কিছুই বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে কোথায় ক্ষোভ জমছে, সেটিও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, সমীক্ষা দলের প্রতিনিধিরা জেলা ধরে ধরে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে। প্রকল্পগুলি নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি, রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তন এবং ভোটের সিদ্ধান্তে তার প্রভাব-সব কিছুই বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে কোথায় ক্ষোভ জমছে, সেটিও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন:
সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, গ্রাম এবং শহরতলি-দুই এলাকাতেই মহিলাদের মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রহণযোগ্যতা অপরিসীম। মাসিক এই আর্থিক সহায়তা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে বলে উপভোক্তাদের বড় অংশ মত দিচ্ছেন। একইভাবে যুবসাথী প্রকল্প পড়ুয়া ও বেকার যুবকদের মাসিক ভাতা পড়াশোনা চালানো ও চাকরির প্রস্তুতিতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে-এমন প্রতিক্রিয়াই উঠে আসছে সমীক্ষায়।
এই সমীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজনৈতিক কৌশল সাজাতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। কোন এলাকায় আক্রমণাত্মক প্রচার, কোথায় বিকল্প উন্নয়ন মডেল তুলে ধরা হবে কিংবা কোথায়, কোন স্থানীয় ইস্যুকে সামনে আনা হবে-এই সব সিদ্ধান্তই নির্ভর করবে এই সামাজিক প্রকল্পগুলির প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে তার উপর।
এই সমীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজনৈতিক কৌশল সাজাতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিন এই প্রকল্পগুলিকে ‘ফ্রি স্কিম’ বলে আক্রমণ করলেও বাস্তবে যে এগুলি বিপুল জনসমর্থন তৈরি করেছে, তা এখন আর বিজেপির অস্বীকার করার জায়গা নেই। বিশেষ করে মহিলা ও যুব ভোটারদের মধ্যে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক বাস্তবতা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিজেপির চলমান সমীক্ষার ফলই এখন ঠিক করবে, আগামিদিনে তাদের লড়াইয়ের রূপরেখা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
