ভোটচুরি নিয়ে নিত্যদিন আন্দোলন করে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। কখনও জেন জি’র মন পেতে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ করছেন। বিরোধী শিবির দাবি করছে, দেশজুড়ে মোদি বিরোধী হাওয়া বইছে। কিন্তু কোথায় কী? ভোটের ফলে অন্তত এসবের কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অন্তত উপনির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধি তো দূর, শক্তি কমার ইঙ্গিতই মিলছে।
বাংলা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরির ৫ বিধানসভা এবং অসমের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হচ্ছে শুক্রবার। এই ৬ আসনের মধ্যে কংগ্রেস শূন্য। এর মধ্যে নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের ফলাফল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে জিতেছিল কংগ্রেস। কিন্তু গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নগাঁও কেন্দ্রের সাংসদ প্রদ্যোত বরদলুই পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। ফলে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়েছে। নিজেদের জেতা ওই আসনে কংগ্রেস তৃতীয় হয়েছে। দ্বিতীয় আসনে উঠে এসেছে এআইইউডিএফ। ফলে লোকসভায় কংগ্রেসের আসন কমে দাঁড়াতে চলেছে ৯৭।
আরও পড়ুন:
অসমের নগাঁও কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে আইএএএস আধিকারিক দেবাশিস শর্মাকে দাঁড় করায়। কংগ্রেস প্রার্থী করে প্রাক্তন বিধায়ক শিবমণি বোরাকে। অন্যদিকে এআইইউডিএফের তরফে লড়ছেন দলের সুপ্রিমো বদরুদ্দিন আজমল। নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার মুসলিম। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে মূলত মুসলিমদের ভোটেই জিতে এসেছিলেন কংগ্রেসের বরদলুই। কিন্তু এখন ওই মুসলিমবহুল আসনেই বহু পিছিয়ে তৃতীয় হওয়ার পথে হাত শিবির। কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফের ভোট কাটাকাটির জন্য বিজেপি এখনও বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে। নগাঁও হাতছাড়া হওয়ার ফলে কংগ্রেসের লোকসভার আসনসংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯৭। এর বাইরে তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে প্রত্যাশিতভাবে দুই আসনেই এগিয়ে থলপতি বিজয়ের টিভিকে। পুদুচেরিতে এগিয়ে সে রাজ্যের শাসকদল এনআর কংগ্রেস।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাহুলের এত আন্দোলন, এত বিক্ষোভে আদৌ কংগ্রেসের কোনও লাভ হচ্ছে কী? মুসলিম ভোটাররাও কি কংগ্রেসের উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন? যদিও হাত শিবির বলছে, উপনির্বাচনের ফলে এত গুরুত্ব দেওয়ার কোনও অর্থ হয় না। কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার দরুন উপনির্বাচনে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পাবে সেটাই স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
