বরানগরের মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে বিধায়ক করেছে। বরানগর ক্লাবও মনে করে, ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভরসাকে সঙ্গী করেই বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) বৃহস্পতিবার উপস্থিত ছিলেন সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায়। ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনীতিমুক্ত করা ইস্যুতেও একেবারে স্ট্রেট ব্যাটে জবাব দিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি করলে কি খেলার প্রতি ভালোবাসা থাকতে নেই? তবে নির্দেশ পেলে সিএবি থেকে সরে যেতেও দ্বিধা করবেন না, সাফ জানিয়ে দিলেন সজল।
সরকারে এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বারবার বলেছেন, বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুনেই সজল বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন রাজনীতির কেউ খেলায় আসবেন না। তিনি যদি বলেন, তাহলে প্রাক্তন ক্রিকেটার, ক্রিকেটপ্রেমী, সংগঠকরা রয়েছেন তাঁরা আসবেন। সিএবি ভালোভাবে চলবে।” পালটা প্রশ্ন উড়ে আসে, বিজেপির তরফ থেকে বলা হয়েছিল দলের বিধায়ক-নেতাদের ক্রীড়া প্রশাসনে দেখা যাবে না। তাহলে সিএবির এজিএমে একাধিক বিজেপি বিধায়কদের দেখা গেল কী করে?
আরও পড়ুন:
সজলের জবাব, “দেখুন, আমার এলাকার ক্লাব আমাকে প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছে। আমার কেন্দ্রেরই ক্লাব। কাল যদি আমাকে বলেন তাহলে আমি ছেড়েও দিতে পারি।” খানিকটা অভিমানী সুরে বলেন, “আচ্ছা সবসময় রাজনীতিবিদরাই কেন সফট টার্গেট? এখানে তো সাংবাদিক, পুলিশ, সরকারি আধিকারিক সকলেই রয়েছেন। আপনারা দেখুন, আমি এখানে রাজনীতি করি কিনা। ক্লাব যদি মনে করে বিধায়ককে পাঠালে ক্রিকেটের উন্নতি হবে, সেটার কারণ নিশ্চয়ই কিছু রয়েছে।”
সাম্প্রতিক অতীতে নানা বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে সিএবির উপরে। ক্রিকেটারদের বয়স ভাঁড়ানো থেকে শুরু করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদ আঁকড়ে বসে থাকা-প্রচুর অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রথমবার সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দেওয়া সজল সেসব নিয়ে কিছু বলতে চাননি। নির্বাচন নিয়ে তাঁর জবাব, নিয়ম যা রয়েছে সেই অনুযায়ীই সমস্ত হবে। নমিনেশন কেউ দেয়নি, তাই ভোট করানো যায়নি। ২০২৮ সালে শতবর্ষে পা দেবে সিএবি। তাই আগামী বছর থেকেই উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন সজল। সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
