“আমার উপর রাগ থাকলে আমাকে দু’চড় মারুন, তবু বিজেপিকে ভোট দিন। ব্যক্তিগত রাগ আমার উপর রাখুন, দলের উপর নয়।” ভোটের মুখে কোতুলপুরে এই একটাই বাক্য এখন রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দু। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর এই আবেদন ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের কটাক্ষ, এ কি সহানুভূতি আদায়ের শেষ চেষ্টা? নাকি ভাঙতে বসা সংগঠনকে বাঁচানোর মরিয়া বার্তা?
এই বিষয়ে আরও খবর
মঙ্গলবার জয়পুর ব্লকের গোপালনগর গ্রামে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারের সমর্থনে আয়োজিত কর্মিসভায় উপস্থিত হয়ে শুরু থেকেই তৃণমূলকে তোপ দাগেন সাংসদ। তবে তাঁর আক্রমণাত্মক ভাষণের মাঝেই বারবার ফিরে আসে ওই আবেদন। নিজেকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দলকে বাঁচানোর আহ্বান! শুধু তাই নয়, কর্মিসভার ফাঁকে কর্মীদের সঙ্গে মাটিতে বসে মধ্যাহ্নভোজন করতেও দেখা যায় তাঁকে। ‘মাটির মানুষ’ ইমেজ তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নজর কাড়লেও, তার আড়ালেই স্পষ্ট ছিল বক্তব্যের অন্তর্লীন টানাপোড়েন। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।


কর্মিসভায় বক্তব্যে সৌমিত্র খাঁ অভিযোগ করেন, কোতুলপুর-সহ রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে কোটি টাকার বিনিময়ে প্রার্থী পদ বিক্রি হয়েছে। সরাসরি তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহারের নাম করে তাঁর দাবি, টাকা দিয়েই টিকিট পেয়েছেন তিনি। পূর্বস্থলী উত্তর, বড়জোড়া-সহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রের নাম টেনে একই অভিযোগ সাংসসের। আলুর দাম ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিনরাজ্যে আলু সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজারে ধস নেমেছে। হিমঘর শিল্প বিপর্যস্ত, চাষিরা চরম সঙ্কটে। কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “আলুর দাম নেই, মমতার ভোটও থাকবে না।” এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেললাইন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন সাংসদ। সীমিত বরাদ্দের মধ্যেও উন্নয়নের দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সৌমিত্র খাঁর সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে পালটা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। প্রার্থী হরকালী প্রতিহার কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপি একটি মিথ্যেবাদী দল। সৌমিত্র খাঁ কখন কী বলেন, তিনি নিজেই জানেন না। কোতুলপুরে বিজেপির সংগঠন ভেঙে পড়েছে বলেই এখন নাটক করছেন।” কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “১০০ দিনের কাজ থেকে আবাস যোজনা সব ক্ষেত্রেই রাজ্যের মানুষ বঞ্চিত। ওরা মানুষের পেটে লাথি মারছে।”
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
