সন্ধ্যা গড়িয়ে ঘড়ির কাঁটায় তখন আটটা বেজে পনরো মিনিট। সুপারস্টার সলমন খানের সোশাল মিডিয়া পেজে চোখ রাখতেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা। নিট কেলেঙ্কারিতে ছাত্রসমাজের আন্দোলন নিয়ে বুধবার রাতেই কলম ধরেছিলেন সলমন। চব্বিশ ঘণ্টা পেরনোর আগেই ফের সমাজমাধ্যমে আ্ররও একটি পোস্ট। দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের উদ্দশে সলমনের আবেদন, এবার যেন তাঁরা বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যায়।
এর নেপথ্যে অবশ্য বিশেষ যুক্তিও খাঁড়া করেছেন ভাইজান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সলমনের প্রধান ভরসাস্থল। আর সেই ভরসায় ভর করে সলমনের অনুরোধ, ‘শিক্ষাগত দিক থেকে এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও শিক্ষার্থীরাই আমাদের দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই পড়ুয়াদের বা তাঁদের অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এবিষয়ে টুইট করেছেন। আমি নিশ্চিত যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য যাঁরা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ অনুগ্রহ করে আপনারা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যান এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকুন।”
আরও পড়ুন:
মোদির কোন বার্তায় সলমন এতটা আত্মবিশ্বাসী? প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ছাত্রদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে কিছুই নয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করবে না সরকার। দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।’ বুধবার গভীর রাতে সাদাকালো একটি ছবি ভাগ করে সুপারস্টারের বক্তব্য, ‘আন্দোলন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত যেমন সহিংস রূপ নিল, সেটা সত্যিই দুঃখজনক! যারা আহত হয়েছেন, সেসব শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রইল। প্রশ্নপত্র ফাঁস আদতেই শিক্ষাব্যবস্থার এক অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা।’
কিছুটা সমর্থনযোগ্য মন্তব্য, ‘তবে আমাকে এটা আনন্দ দিচ্ছে যে, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আমাদের দেশের পড়ুয়ারা একজোট হয়েছে এবং ওদের অভিভাবকরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওরা দৃঢ় কণ্ঠে যে অবস্থান নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কঠোর পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি একটি উন্নত ও শিক্ষিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওদের এই নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
ভাইজানের সংযোজন, “এই আন্দোলন বা প্রতিবাদের পথই সঠিক। আর শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ওরা সত্যিই সাহসী এবং অদম্য। শিক্ষার প্রতি এই প্রজন্মের এমন একাগ্রতা ও উদ্দীপনা ভবিষ্যতে ভারতকে গর্বিত করবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
