বলিউডের বাস্তুতন্ত্রে ‘কাস্টিং কাউচ’ তত্ত্ব নতুন নয়। এযাবৎকাল ফিল্মি দুনিয়ার একাধিক অভিনেত্রী নিজেদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। কেউ শারীরিক কিংবা মানসিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন তো কেউ বা এহেন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে সিনেদুনিয়া থেকেই পাততাড়ি গুটিয়েছেন। এবার স্বরা ভাস্কর এমন এক রাতের কথা ভাগ করে নিলেন, যা তাঁর কাছে আজও বিভীষিকার থেকে কম কিছু নয়।
সেই রাতেই আবার আরেক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন ওই পরিচালক। অভিনেত্রীর দাবি, “মাঝরাতে ওই পরিচালক আমার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক…”
আরও পড়ুন:
ঠিক কী ঘটেছে? স্বরা ভাস্কর তখন বলিউডে সবে পা দিয়েছেন। ‘তনু ওয়েডস মনু’র সাফল্যের পর একটি বিগবাজেট ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই ছবিরই পরিচালকের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ সিজন ২-এর মঞ্চে সেকথাই ভাগ করে নিলেন স্বরা। অভিনেত্রী দাবি করেন, সিনেমার দৃশ্যের রিহার্সাল করার অছিলায় তাঁকে একা ডেকে পাঠিয়েছিলেন পরিচালক। ব্যক্তিগতভাবে মেসেজও করতেন। কবিতা পাঠাতেন। তবে একদিন পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে তখন, যখন ছবির এক রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়া দেওয়ার জন্য তাঁকে ডেকে পাঠান ওই পরিচালক। কীরকম?

স্বরা ভাস্কর বলেন, “‘আমি আগেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, রিহার্সালের সময় আর কারা থাকবেন? তো ওই পরিচালক আমাকে বলেন, ‘তুমি আর আমি, আমরা দু’জনেই আলোচনা করব।’ আমি বলেছিলাম- না। আপনি অভিনেতা এবং ক্যামেরাপার্সনকে ডেকেছেন। যদি রিহার্সাল হয়, তবে সবারই সেটা করা উচিত। আমরা একা কেন রিহার্সাল করব?’” তবে এখানেই ঘটনার শেষ নয়। স্বরা ভাস্কর জানান, গেস্ট হাউসে গিয়ে দেখেন পরিচালক এবং সিনেম্যাটোগ্রাফার সেখানে বসে মদ্যপান করছেন। সে যাত্রায় চিত্রনাট্য পড়ে কোনওমতে ওখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই রাতেই আবার আরেক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন ওই পরিচালক। অভিনেত্রীর দাবি, “মাঝরাতে ওই পরিচালক আমার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক হয়ে উঠেছিল যে, আমার মনে হয়েছিল, পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভিতরেই ঢুকে পড়বেন। শেষপর্যন্ত দরজা খুলতে বাধ্য হই। এরপর মদ্যপ অবস্থায় ওই পরিচালক আজব আবদার করে বসেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি?’” অভিনেত্রী যদিও সেদিন ওই পরিচালককে পত্রপাঠ বিদায় করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
