একে প্রথম জামাইষষ্ঠী। তারউপর জামাই এখন নতুন বিধায়ক। সেলিব্রেশন একেবারে ডবল! ব্যস্ত বিধায়ক মশাই অবশ্য ‘হাতে সময় কম’ বলেও শ্বশুরবাড়িতে কবজি ডুবিয়েই খাওয়াদাওয়া করলেন। ভাবছেন তো কার কথা বলা হচ্ছে? বলছি বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর কথা। যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত নেড়াই থাকবেন। তাঁর সেই ‘ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা’ অবশ্য বেশিদিন রাখতে হয়নি। ছাব্বিশেই তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে রাজ্যে এসেছে বিজেপি সরকার। কৌস্তভের মাথায় আপাতত সযত্নলালিত কেশ! তিনি আবার শ্বশুরবাড়ির প্রিয় জামাইও। তাই হাজার ব্যস্ততার মাঝেও প্রথম জামাইষষ্ঠী বেশ উপভোগ করলেন বারাকপুরের বিধায়ক।
কৌস্তভের জন্য গর্বিত বলে জানালেন শ্বশুর বিশ্বজিৎ কর। তাঁর কথায়, ‘‘জামাই আমার খুব প্রিয়। ওর জন্য আজ তো বিশেষ ব্যবস্থা করেইছি। ভেটকি মাছের পাতুড়ি, সরষে ইলিশ, ইলিশভাজা, ফিশফ্রাই, খাসির মাংস – সব আছে। এছাড়া দই, মিষ্টি, ফলফলাদি সবকিছুর আয়োজন রয়েছে। ও যা চাইবে, তাই পাবে। বড় মেয়ে প্রীতি আমার কাছে চাঁদের মতো। সেই চাঁদ-মেয়ের জামাই কৌস্তভ, ও তো আমাদের খুব আদরের হবেই। ও এখন বিধায়ক। জনতার কাজ করুক ভালো করে, এই আশীর্বাদ করি।”
কৌস্তভ বাগচীর শ্বশুরবাড়ি শ্রীরামপুরে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর আইনজীবী, দীর্ঘদিনের বান্ধবী প্রীতি করের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আইনজীবী কৌস্তভ। এ বছর সামাজিক বিয়ে হয় তাঁদের। আর তারপর ভোটে জিতে প্রথম বিধায়ক হয়ে প্রথমবার জামাই ষষ্ঠীতে এলেন তিনি। বাড়ির বড় মেয়ে প্রীতি বাবার কাছে চাঁদের মতো প্রিয়। প্রিয়তর বিধায়ক জামাই। জনগণের সেবা করার কাজে ব্রতী কৌস্তভের জন্য গর্বিত বলে জানালেন শ্বশুর বিশ্বজিৎ কর। তাঁর কথায়, ‘‘জামাই আমার খুব প্রিয়। ওর জন্য আজ তো বিশেষ ব্যবস্থা করেইছি। ভেটকি মাছের পাতুড়ি, সরষে ইলিশ, ইলিশভাজা, ফিশফ্রাই, খাসির মাংস – সব আছে। এছাড়া দই, মিষ্টি, ফলফলাদি সবকিছুর আয়োজন রয়েছে। ও যা চাইবে, তাই পাবে। বড় মেয়ে প্রীতি আমার কাছে চাঁদের মতো। সেই চাঁদ-মেয়ের জামাই কৌস্তভ, ও তো আমাদের খুব আদরের হবেই। ও এখন বিধায়ক। জনতার কাজ করুক ভালো করে, এই আশীর্বাদ করি।”
প্রথমবার জামাইষষ্ঠীতে গিয়ে কৌস্তভের অবশ্য মন একটু খারাপ। বারবার বলছেন, ‘‘হাতে সময় খুব কম। আরেকটু সময় নিয়ে এলে ভালো হতো। এত খাবার! কতটা খেতে পারব, জানি না। খুব দ্রুততার মধ্যে সব রীতিনীতি সারতে হবে। এরপর পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠান আছে। আগামিকাল (রবিবার) আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে একাধিক কর্মসূচি আছে, সেখানে যেতে হবে আমাকে।” নিজের জেদ পূরণ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গদিচ্যুত করার পর আপাতত আর কোনও প্রতিজ্ঞা নেই কৌস্তভের। এখন শুধু মন দিয়ে রাজনীতিটা করতে চান। বিধয়ক হিসাবে অনেক দায়িত্ব তাঁর। আর অবশ্যই চালিয়ে যাবেন আইন চর্চা। সবমিলিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে প্রথমবার জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ি ঘুরে এলেন।
সর্বশেষ খবর

