নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো। অনেকে অবাক নন। গত কয়েক বছরে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল আটলাস লায়ন্সরা। এই সাফল্যের রাস্তা তৈরি হয়েছিল একযুগ আগে। যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ভারতীয় ফুটবল মহলের এক পরিচিত নাম- করিম বেঞ্চারিফা। সালগাঁওকর, চার্চিল ব্রাদার্স, মোহনবাগানে কোচিং করিয়েছেন। মরক্কোর অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ ছিলেন, মরোক্কান কোচের হাতে তৈরি আশরাফ হাকিমি ও নৌসার মাজরাউইয়ের মতো তারকা। মঙ্গলবার সকালে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে তিনি জানালেন মরক্কোর সাফল্যের রহস্য। শুরুতেই করিম স্বপনসাধন বোসের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারপর কথাবার্তা যে পথে এগোল…
প্রশ্ন: খেলা কেমন দেখলেন? কতটা খুশি?
আরও পড়ুন:
করিম: মরক্কো দারুণ খেলেছে। নেদারল্যান্ড একসময় টোটাল ফুটবলের ঘরানায় খেলত। আজ সেই দেশের বিরুদ্ধে মরক্কোর বল পজিশন, আক্রমণ বেশি। আমরা তো দ্বিতীয়ার্ধে ও সংযুক্তি সময়ে একতরফা খেলেছি।
প্রশ্ন: সেই হিসেবে তো আগেই ম্যাচ জেতা উচিত ছিল?
করিম: অবশ্যই। ডাচরা শুধুই রক্ষণ করে গিয়েছে। আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছিল। টাইব্রেকারে যাওয়ার জন্যই খেলছিল। কিন্তু আমরা জেতার জন্য খেলেছি।

প্রশ্ন: গত বিশ্বকাপে স্পেন-পর্তুগাল বধ। এবার গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে আটকে দিয়েছে। রাউন্ড অফ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের মতো ফেভারিটদের হারানো। মরক্কোর সাফল্যের রহস্য কী?
করিম: লড়াকু মানসিকতা আমাদের রক্তে আছে। তবে মরক্কোর সাফল্যের রহস্য খুঁজতে এক যুগ পিছিয়ে যেতে হবে। ২০১৫ সালে মরক্কোর ফুটবল বিপ্লব শুরু হয়। আমি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ ছিলাম। ফলে আমি জানি সেই সময় কী চলছিল। আমরা তাড়াহুড়ো করিনি, ধৈর্য ধরেছি। অনেক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ছিল। আর বিশ্বকাপে যারা খেলছে, শুধু তারা নয়। বিভিন্ন স্তরে আমাদের প্রচুর প্লেয়ার তৈরি আছে। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ দল এবার আফ্রিকা সেরা হয়েছে। অনূর্ধ্ব-২৩ দল অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পেয়েছে। মূল দলও আফকন চ্যাম্পিয়ন। গতবার আমরা স্পেন, পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিলাম। এবার শেষ ষোলোয়। বাকি দুনিয়া মরক্কোর সাফল্যে অবাক হতে পারে, আমি নই।

প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপ দলের অনেকেই তো আপনার ছাত্র ছিলেন?
করিম: হ্যাঁ। আশরাফ হাকিমি ১৮ বছর বয়স থেকে মরক্কোর হয়ে খেলছে। কিন্তু ওই সময় ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও খেলেছে। মারজাউই প্রথমে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। দু’জনেই আমার কোচিংয়ে খেলেছে। ওদের মধ্যে জেতার খিদে মারাত্মক। দেশের জন্য জান লড়িয়ে দেয়। সেই জন্যই ওরা এত স্পেশাল।

প্রশ্ন: আপনি ভারত ও মরক্কো, দুই দেশের ফুটবলের সঙ্গেই পরিচিত। ভারত ফুটবলে এতটা পিছিয়ে। কোথায় গন্ডগোল হল আমাদের? মরক্কো কোথায় এগিয়ে?
করিম: হঠাৎ করে কোনও কিছু বদলে যায় না। মরক্কো ১০ বছর অপেক্ষা করেছে। আর একটা বিষয় হল, আমাদের যত দল সাফল্য পেয়েছে, সেই সব দলের কোচ মরক্কোর। ২০ বছর আগে আমাদেরও ভারতের মতোই অবস্থা ছিল। তাই এখন ভারতের এমন কোচের দরকার যিনি ভারতীয় ফুটবলকে খুব ভালো চেনেন। দলকে নীচু থেকে উপরে নিয়ে যেতে পারবে।
২০১৫ সালে মরক্কোর ফুটবল বিপ্লব শুরু হয়। আমি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ ছিলাম। ফলে আমি জানি সেই সময় কী চলছিল। আমরা তাড়াহুড়ো করিনি, ধৈর্য ধরেছি। অনেক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ছিল।
প্রশ্ন: শুধু কোচ বদলানোটাই কি সব?
করিম: না, তা নয়। কিন্তু বিদেশি কোচ এনে সমাধান সম্ভব নয়। কেন বলছি। ধরা যাক, ব্রাজিলের কাউকে কোচ হিসেবে নিয়ে আসা হল। তিনি হয়তো এই মানের দলে কোচিং করাননি। একটা কম শক্তিশালী দলকে কীভাবে অনেক উপরে নিয়ে যাওয়া যায়, তা তিনি সেভাবে জানেন না। কারণ তিনি সেরকম দলে কোচিং করাননি। আমার দেশ সেই অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে বলে আমি ভারতে সাফল্য পেয়েছি।

প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন। বড়দলকে হারানো একরকম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা কঠিন। মরক্কো কি চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে?
করিম: মরক্কোর বিশ্বকাপ জেতার দাবিদার। এই দলের মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে। গত বিশ্বকাপে আমরা ডিফেন্স করে কাউন্টার অ্যাটাক করতাম। এখন আমরা খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে জানি। বিপক্ষের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সেটা করেছি। পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে, আমরা কতটা এগিয়ে। অনেকটা পথ যেতে হবে, তবে আমি আশাবাদী মরক্কো বিশ্বকাপ জিতবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
