স্টারলিঙ্ককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি! বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক। এবার তিনি প্রশ্ন তুললেন, ভারত দেশটা কি আম্বানি চালাচ্ছে? এবং সেই টুইটের জবাবে নাম না করে গৌতম আদানিকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নেটদুনিয়ায় প্রবল চর্চা চলছে মাস্কের সঙ্গে রাহুলের এই কথোপকথন নিয়ে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বিরোধীদের সঙ্গে কি তাহলে বিদেশি শক্তির যোগ থাকছে?
বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মাস্ক। লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্ককে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, কিছু গোষ্ঠী নিজেদের সেদেশে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।’দ্বিতীয় পোস্টে মার্কিন ধনকুবের বলেন, ‘স্টারলিঙ্ক ভারতের সেই মানুষদের জন্য উচ্চ-গতির ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করবে, যাঁরা পক্ষে চড়া দামে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন না।’ প্রথম দিকের এক্স পোস্টগুলিতে অবশ্য সরাসরি কোনও গোষ্ঠী বা প্রভাবশালীর নাম উল্লেখ করেননি টেসলা কর্তা।
আরও পড়ুন:
তবে তারপর একটি প্রতিবেদন রিটুইট করেন মাস্ক। ওই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু ছিল, ভারত সরকার কি নাগরিকদের চেয়েও গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা করছে? রিটুইট করে মাস্কের বক্তব্য, ‘১৬৫টি দেশে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে ভারত সরকারের প্রত্যেকটি নিয়ম মেনে চলেছে। তা সত্ত্বেও কেন লাইসেন্স পেলাম না? তাহলে কি ভারতের বস আম্বানিই?’ মাস্কের এই টুইটের জবাবে রাহুল একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং গৌতম আদানিকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। কারও নাম না করে রাহুল লিখেছেন, ‘আরেকজনকেও এবার খুঁজে পাবেন এবার।’ অর্থাৎ তাঁর ইঙ্গিত, ভারতের ‘বস’ আদানিও।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রাহুলের ওই টুইটে উত্তর দিয়েছেন মাস্ক। লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ রাহুল। বিষয়টা সত্যিই খুব সমস্যার।’ প্রসঙ্গত, মাস্কের দাবি খারিজ করে দিয়েছে ভারত। যোগাযোগ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য ভারতে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন পরিকাঠামো রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
