পরাত্তু রবীন্দ্রন শ্রীজেশ। ভারতীয় হকির সেরাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। টোকিওর পর প্যারিস – টানা দুই অলিম্পিকে দেশের হয়ে জিতেছেন ব্রোঞ্জ পদক। শেষবার টানা দুই অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দল পদক জিতেছিল ৫২ বছর আগে, মেক্সিকো সিটি (১৯৬৮) এবং মিউনিখে (১৯৭২)। এত বছর পর ভারত যে কীর্তি গড়েছে তার নেপথ্যে রয়েছে শ্রীজেশের হ্যান্ড অফ গড। সেই শ্রীজেশ এতদিন ছিলেন জুনিয়র ভারতীয় দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁকে খোয়াতে হয়েছে চাকরি।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জুনিয়র দলের হেডকোচ ছিলেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে দল পাঁচটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে প্রতিবারই পডিয়ামে শেষ করেছে ভারত। জুনিয়র বিশ্বকাপেও ব্রোঞ্জ পদক জেতে। তবুও দায়িত্বে আর রাখা হল না তাঁকে। আর সেই নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ‘দ্য গ্রেট ওয়াল অফ ইন্ডিয়া’। কোচের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। শ্রীজেশের দাবি, ভারতীয় কোচদের উপেক্ষা করে বিদেশি কোচদেরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় হকি ফেডারেশন।
আরও পড়ুন:
সোশাল মিডিয়ায় শ্রীজেশ লেখেন, ‘মাত্র দেড় বছরেই বুঝি আমার কোচিং কেরিয়ার শেষ হয়ে গেল। এই সময়ের মধ্যে আমরা পাঁচটি টুর্নামেন্ট খেলেছি। প্রতিটিতেই পডিয়াম ফিনিশ (শীর্ষ তিনের মধ্যে স্থান) করেছি। জুনিয়র বিশ্বকাপেও ব্রোঞ্জ জিতেছি। খারাপ ফলের জন্য কোচ ছাঁটাইয়ের কথা শুনেছি। কিন্তু এই প্রথম কোনও বিদেশি কোচকে জায়গা করে দিতে গিয়ে আমাকে সরে যেতে হল। ভারতীয় কোচরা কি তাহলে ভারতীয় হকির উন্নতি ঘটাতে পারে না?’ এখানেই থামেননি তিনি। আরও জানান, ২০৩৬ অলিম্পিক্সকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য তাঁকে দেশীয় কোচদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার কথা বলেছিলেন। অথচ বাস্তবে চারটি জাতীয় দলের ক্ষেত্রেই বিদেশি কোচদের উপরই আস্থা রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
It’s looks as if My teaching profession involves an finish after 1.5 years, throughout which we performed 5 tournaments and secured 5 podium finishes, together with a Junior World Cup bronze medal.
I’ve heard about coaches getting fired after dangerous performances.
However that is the primary time I’m…— sreejesh p r (@16Sreejesh) May 13, 2026
এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছে ভারতীয় হকি ফেডারেশন। তাদের দাবি, শ্রীজেশকে বরখাস্ত করা হয়নি। তাঁর চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছিল। এরপর নিয়ম মেনেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই নতুন কোচ নির্বাচন করা হয়েছে। ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা কোনওভাবেই শ্রীজেশকে সরাইনি। বরং তাঁকে ডেভেলপমেন্ট টিমের কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।’
ফেডারেশন জানিয়েছে, বিদেশি কোচদের প্রতি কোনও পক্ষপাতিত্বের কথা শ্রীজেশকে কখনও বলা হয়নি। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, ভারতীয় কোচদের উন্নয়নের জন্য ‘কোচিং পাথওয়ে প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৬০০-র বেশি দেশীয় কোচকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে ফেডারেশনের সাফাইয়ে বরফ গলেনি। দেশের হকির অন্যতম সফল এই তারকার এমন বিদায় ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
