শিলিগুড়ি: সময় এগোতেই থিতিয়ে পড়েছে পুলিশ প্রশাসনের ভাড়াটিয়া তথ্য সম্পর্কিত সচেতনতামূলক শিবির। ভাড়াটিয়া সম্পর্কে বাড়ির মালিকরা যাতে পুলিশ প্রশাসনকে তথ্য দেয়, সেই ব্যাপারেই থানাভিত্তিক শহরের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট, পাড়ায় সচেতনতামূলক শিবির শুরু করেছিল পুলিশ প্রশাসন। যদিও কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই সচেতনতামূলক কর্মসূচি উধাও হয়ে গিয়েছে। শহর সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক বসতি গড়ে উঠছে। সেখানে বাড়ি বানিয়ে অনেকেই ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন। যদিও কারা ভাড়ায় থাকছেন সে সংক্রান্ত কোনও তথ্যই নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
একের পর এক এটিএম লুট থেকে শুরু করে সোনার দোকান লুটের ঘটনার পরেও বিভিন্ন তদন্তে বাড়িভাড়া নিয়ে লুকিয়ে থাকা অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে, পুলিশ প্রশাসনের কাছে ওই ব্যক্তি সম্পর্কিত ভাড়াটিয়া পোর্টালে কোনও তথ্যই নেই। চলতি মাসেই মাটিগাড়া এলাকায় প্রতারণার একটি অভিযোগ সামনে এসেছিল। মাস আটেক আগে থেকে ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। যদিও সম্প্রতি ওই তরুণ উধাও হয়ে যান। পুলিশ তদন্তে নেমে দেখতে পায়, ওই তরুণ মাটিগাড়ার ফ্ল্যাটে আসার পরেই নিজের আধার কার্ড সহ অন্যান্য নথি মাটিগাড়ার ওই ঠিকানায় করে নিয়েছেন। আদতে, ওই তরুণ কোথাকার বাসিন্দা, এখন হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। ওই তরুণকে ফ্ল্যাটে ভাড়া দেওয়ার সময়ই আধার কার্ড ও অন্যান্য তথ্য ফ্ল্যাট মালিক নিয়ে ভাড়াটিয়া পোর্টালে আপলোড করে দিলে এত সমস্যা হত না বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। শুধু ওই ঘটনা নয়, মাসখানেক ধরে একটি গ্যাং শহরে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে সোনা লুট করে চলেছে। রেইকি ছাড়া এই কাজ কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই গ্যাং-এর সদস্যরা শহরেই কোথাও ডেরা বেঁধেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া ছবি নিয়ে খোঁজখবর চালালেও ভাড়াটিয়া পোর্টালে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্যই পাননি তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের ধারণা ওই চক্রের পান্ডারা ভিনরাজ্যের বাসিন্দা।
উত্তর পলাশ, মধ্য পলাশ থেকে শুরু করে নতুন বাজার, সমরনগরে এ ধরনের ভূরিভূরি উদাহরণ পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ভাড়াটিয়ারা আসছেন ভিনজেলা বা ভিনরাজ্য থেকে। অন্য জায়গা থেকে অপরাধমূলক কাজ করে শহরে এসে বাড়িভাড়া নিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার ঘটনাও কম নয়। মাসচারেক আগে আলিপুরদুয়ারে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক তরুণ ভানুনগর এলাকায় এসে অসুস্থতার নাম করে বাড়িভাড়া নিয়েছিলেন। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সূত্র ধরে ওই তরুণ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টা সামনে আসে।
শহরের বাসিন্দা অভিজিৎ দাসের কথায়, ‘কোনও ভাড়াটিয়া অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার পর তদন্তে যদি দেখা যায়, ওই ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত কোনও তথ্যই পুলিশ প্রশাসনকে দেননি বাড়ির মালিক, তাহলে ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ বিভিন্ন সময় হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এধরনের আইনি ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা নেওয়া হচ্ছে তা জানা নেই।’ বাড়ির মালিকদেরই সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ও পুরনিগমের পক্ষে শুধুমাত্র শহরেই ১৫ লক্ষ মানুষকে নজরে রাখা সম্ভব নয়। কারা আসছেন, কী উদ্দেশ্যে আসছেন, কোনও তথ্যই আমাদের কাছে থাকছে না। বাড়ির মালিকদের এব্যাপারে সচেতন হতেই হবে।’ মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং জানান, ভাড়াটিয়া সম্পর্কিত তথ্য বাড়ির মালিকরা মোটামুটি পোর্টালে দিচ্ছেন।
