ব্রিটিশদের তাড়া খেয়ে গোটা গ্রাম একদা জনশূন্য হয়েছিল। মাঝে কেটেছিল বহু বছর। তখনও সেই গ্রামকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন কুলদেবী। ফিরে এসে সেই গ্রামেই দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন বাসিন্দারা।
সেই পুজো পেরিয়েছে সাড়ে ৩৫০ বছর। ইতিহাস, বিশ্বাস আর পরম্পরাকে সঙ্গে নিয়ে আজও দুর্গাপুজো হয়ে আসছে দুর্গাপুরের চোংদার বাড়িতে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৩৫০ বছর আগে দুর্গাপুরের দুব চুরুরিয়ার চোংদার পরিবারের পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই স্বপ্নাদেশের পরই শুরু হয় দেবী দুর্গার পুজো। পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে এলাকায় ব্রিটিশ সেনার আনাগোনা শুরু হয়। সেনা ঘাঁটি তৈরির জন্য গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের গ্রামে ফিরে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুরনো রীতি মেনেই নতুন করে শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের সদস্যরা পুজোর দায়িত্ব সামলে আসছেন।
আরও পড়ুন:

চোংদার বাড়ির এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার বয়সে নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা প্রাচীন রীতিতেও। সময়ের সঙ্গে কিছু নিয়মে পরিবর্তন এলেও মূল পরম্পরা এখনও বজায় রয়েছে। নবমীর দিন বৈদিক মতে বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩৫০ বছর ধরে ঝড়-ঝঞ্ঝা, যুদ্ধ, সময়ের পরিবর্তন সবকিছুর সাক্ষী এই পুজো। ব্রিটিশ আমলের সেই ইতিহাস পেরিয়ে আজও একই পরিবারের উঠোনে ঢাকের বাদ্যি বাজে, মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। পুজোর মিষ্টিতেও রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাইরের দোকান থেকে কেনা মিষ্টি পুজোয় ব্যবহার করা হয় না। বাড়িতেই গুড় দিয়ে প্রায় সাত রকমের মিষ্টি তৈরি করা হয়। বিসর্জন হয় হ্যাজাক লাইটের আলোয় গরুর গাড়িতে করে। ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি আর সাড়ে ৩৫০ বছরের ঐতিহ্য এই দুইয়ের সাক্ষী চোংদার বাড়ির দুর্গাপুজো।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
