বিয়ের আগে প্রি ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠান পর্যন্ত প্রতিটা মুহূর্ত নিজেদের কাছে ধরে রাখতে চান দম্পতিরা। হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফটোগ্রাফার বুক করে চলে ছবি তোলার পর্ব। কিন্তু সেই ফটোগ্রাফার যদি ঠিক সময়ে না পৌঁছতে পারেন, তাহলে তো হয়রানি হবেই। তাই সেরকমই একটি ঘটনায় এবার মূল্য চোকাতে হল ফটোগ্রাফারকেই! আর তা রীতিমতো অবাক করার মতো।
অভিযোগকারী ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর মোট ২.০৫ লক্ষ টাকায় ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য বুকিং করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
পাত্রীর অভিযোগ, বিয়ের ছবি তোলার জন্য বুকিং থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ফটোগ্রাফার নিজে না গিয়ে তাঁর টিম পাঠিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই টিমও ৭০ মিনিট দেরিতে পৌঁছয় বিয়েবাড়িতে। স্বাভাবিকভাবেই কনের মণ্ডপে প্রবেশ বা বরের বরণ করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। এই অভিযোগ জানিয়ে কর্নাটক উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই দম্পতি। ‘কার্তিক সিং ফটোগ্রাফি’ নামে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত।
ডঃ চিন্ময়ী এম নামে ওই মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। অভিযোগটি আনা হয় ফটোগ্রাফার কার্তিক সিং এবং তাঁর স্ত্রী শর্ভরীর বিরুদ্ধে। ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফিতে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত চান ওই মহিলা। পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণা বাবদ ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে ৫,০০০ টাকা, যাতায়াত খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা এবং ফটোগ্রাফারের দাবি করা ৩২,০০০ টাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
কমিশন ওই সংস্থাকে ২৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ১০,০০০ টাকা আইনি খরচ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, নির্দিষ্টভাবে বুক করা ফটোগ্রাফারের পরিবর্তে কোনও সহকারীকে পাঠানো ঠিক নয়। জরুরি কোনও কারণে ফটোগ্রাফার যদি উপস্থিত হতে নাও পারতেন, তবে আগে জানানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। আগাম জানিয়ে বিকল্প কাউকে পাঠালে অন্য কোনও ব্যবস্থা করা যেতে পারত। এক কথায় এহেন নির্দেশ একেবারেই নজিরবিহীন! এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, অভিযোগকারী ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর মোট ২.০৫ লক্ষ টাকায় ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য বুকিং করেছিলেন। তিনি যাতায়াত খরচ বাবদ ১৬,২০০ টাকা সহ মোট ১,৯৯,২০০ টাকা দিয়েও দেন। এরপরেও এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ওই দম্পতি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
