বাজি রেজিনগর, অধীর-শুভঙ্করকে একজোট করে ‘সাইলেন্ট’ ভোটের হিসাব কংগ্রেসের

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


রেজিনগরের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজর কেন! শুধু তৃণমূল নেত্রীই নন, আইএসএফ ছাড়া প্রত্যেকটি দল এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। আইএসএফের সঙ্গে আলোচনা না করে সিপিএম সেখানে প্রার্থী দিয়ে দেওয়ায় তাদের নিশানা করলেও আইএসএফ আর সেখানে প্রার্থী দেয়নি। তার পরেও সেখানে প্রত্যেক দল সংখ‌্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে। এর সব থেকে বড় কারণ রেজিনগরের ৭০ শতাংশ ভোটই সংখ‌্যালঘু। সেই অঙ্কের হিসাবেই ‘সাইলেন্ট’ ভোটের হিসাব কষছে প্রদেশ কংগ্রেস।

গত ১৫ বছরে যে ছবি গোটা রাজ‌্য দেখেনি, সেই ছবিই সোমবার সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদ জেলাকে কার্যত ‘দুর্গ’ করে রাখা হয়েছিল। প্রদেশ নেতৃত্বের একটি অংশের দাবি, সেই অফিসে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রেরও ঢোকার মতো পরিস্থিতি ছিল না। যা নিয়ে ‘বহরমপুরের রবিনহুড’ অধীর চৌধুরীকেই নিশানা করেছে নেতৃত্বের একাংশ। জেলার সেই বহরমপুর পার্টি অফিসেই বর্তমান প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে বরণ করে নিয়েছেন সদ‌্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি প্রাক্তন মন্ত্রী অধীর-ঘনিষ্ঠ মনোজ চক্রবর্তী। এর পিছনে এআইসিসির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি প্রদেশ নেতৃত্বের একাংশের।

আরও পড়ুন:

রাজ্যে ভোটের পরই রাজ‌্য পর্যবেক্ষক হয়ে আসেন প্রকাশ জোশি। গোটা রাজ্যের নেতৃত্ব একদিকে থাকলেও মুর্শিদাবাদকে কার্যত ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ করে রাখা ছিল বলে অভিযোগ। এআইসিসিও তা জানত। ভোটে একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে এআইসিসি বলেছিল গোটা নেতৃত্বকে একসঙ্গে লড়তে হবে। তার পর উপনির্বাচনের মুখে এসে মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় অধীর এবং প্রদেশ নেতৃত্বকে একসঙ্গে পথে নামানোর কাজ শুরু করেন প্রকাশ জোশি। রেজিনগরের ভোটে যে সংখ‌্যালঘু ভোটই ফ‌্যাক্টর এবং প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে অধীরের শক্তিও তার জন‌্য দরকার, তা বোঝানো হয়। তার পরই ব‌্যতিক্রমী ছবি বরহমপুর পার্টি অফিসে।

রাজ্যের বিজেপি সরকার। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করিয়ে দিয়েছে, সরকারে বদলের পর থেকে কোথাও রাজ্যের কোনও অংশে কোনও অশান্তি হয়নি। সরকার সংখ‌্যালঘুদের একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পরিস্থিতি একই আছে। কোথাও কোনও বিরোধিতা নেই। তসলিমা নাসরিন নিয়েও নতুন করে কোনও পক্ষের তেমন বক্তব‌্য নেই। রেজিনগরকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব‌্য, ওই কেন্দ্রই এবারের উপনির্বাচনে আসল বাজি। তাদের দাবি, ওই কেন্দ্রে এবার ‘সাইলেন্ট ভোট’ হবে। কারণ হিসাবে কংগ্রেসের ব‌্যাখ‌্যা, “হয় সংখ‌্যালঘুরা বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়ে অশান্তি এড়াতে চাইবে। আর না হলে সেখানে গোপনে একজোটে কোনও একটি শক্তির পক্ষে নিজেদের মত প্রকাশ করবে সংখ‌্যালঘু সমাজ।” তাতে তৃণমূলের সংখ‌্যালঘু ভোটেও ভাগ বসাবে কংগ্রেস বলে দাবি নেতৃত্বের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কারণেই রেজিনগর কেন্দ্র নিজেদের জন‌্য রাখতে চেয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। এই একই কারণে রেজিনগরে জোরদার লড়াই দিতে অধীর আর প্রদেশ নেতৃত্বের শক্তি একজোট করতে চেয়েছে এআইসিসি।

এদিন মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হলদিয়ায় দাবি করেছেন, নন্দীগ্রামে বাম, কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের সব প্রার্থীর জামানত জব্দ হবে। যার প্রেক্ষিতে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর বলেছেন, “আমি রাজনৈতিক গণৎকার নই! তবে, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয়, পুলিশকে অন্যায় ভাবে ব্যবহার করা না হয়, তা হলে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ প্রহসনে পরিণত হবে।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *