নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: তৃণমূল প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের পরই বাংলায় এসআইআর নিয়ে কড়া বার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিএলও-দের সুরক্ষা নিয়ে। তাতে জানানো হয়েছে, ৯ ডিসেম্বর অর্থাৎ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ পর্যন্ত সমস্ত বিএলও যেন নিশ্চিন্তে, নিরাপদে কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের উপর যেন কোনও রাজনৈতিক চাপ না তৈরি হয়, তাও দেখতে হবে। আর কমিশনের এই বক্তব্যেই ফুঁসে উঠেছে শাসকদল।
The Election Fee is intentionally planting selective leaks to falsely declare that they’ve supplied a point-by-point rebuttal to the problems raised by the AITC delegation right now. These assertions aren’t simply deceptive, they’re OUTRIGHT LIES. If the EC actually has nothing to… pic.twitter.com/1s2VvIM3dr
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) November 28, 2025
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে অভিযোগ তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কিছু গোপনীয়তা রয়েছে, তাই রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এধরনের মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও তাতে বাংলার জনতা মাথানত করবে না বলে দাবি অভিষেকের।
শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ দিল্লির নির্বাচন কমিশনে গিয়ে পাঁচ দফা প্রশ্ন রেখেছিল তৃণমূল প্রতিনিধি দল। লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা শতাব্দী রায় পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই পাঁচ প্রশ্নের কথা বিস্তারিত জানান। প্রশ্নগুলি এরকম – বঙ্গে SIR প্রক্রিয়া কি অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে? সেটাই যদি হয়, তাহলে আলাদা করে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে কেন? দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে কেন? মিজোরাম, ত্রিপুরার মতো রাজ্যে কেন SIR হচ্ছে না? বলা হচ্ছে অবৈধ ভোটার বাছতে SIR, তাহলে এই অবৈধ ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত মোদি সরকারের বৈধতা কী? এসআইআরের ‘ভয়’ এবং কাজের ‘চাপে’ রাজ্যে এতজনের মৃত্যুতে রক্ত লেগে রয়েছে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হাতে, এই অভিযোগও তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদরা।
এরপরই সন্ধ্যা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, তৃণমূলের পাঁচ প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বিএলও-দের কাজে সহায়তা করতে, তাঁদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় পুলিশ কমিশনার ও ডিজিপিকে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। এছাড়া তাঁদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। এসবের পরই বিষয়টি নিয়ে কার্যত গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্টে তাঁর দাবি, তৃণমূলের কাছে যথেষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ আছে, কীভাবে কমিশনের একাধিক নির্দেশের অপব্যবহার হচ্ছে। হুঁশিয়ারির সুরেই অভিষেকের বক্তব্য, বাংলার শাসকদলের দিকে আঙুল তোলার আগে যেন দুবার ভাবা হয়। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বা অন্য কারও চাপের কাছেই মাথা নত করবে না বাংলা।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন
