বাঁধেই জীবন, পুজোর পরশহীন 

বাঁধেই জীবন, পুজোর পরশহীন 

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


আজাদ, মানিকচক: দুর্গোৎসবে সবাই মেতেছেন। চারিদিকে খুশির আবহ। ভূতনির নতুন রিং বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ২০০–রও বেশি পরিবারের কাছে ছবিটা অবশ্য পুরোপুরি উলটো।

ভিটেমাটি হারিয়ে পরিবারগুলি গত দু’মাস ধরে এই বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সেখানেই বা কী আর স্বস্তি আছে! গঙ্গা আগেই ভিটেমাটি গিলেছে, এবারে অস্থায়ী বাঁধেও হানাদারি চালিয়েছে। ২৪০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের অনেকটাই ইতিমধ্যে গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে গিয়েছে। প্রতি মুহূর্তেই বড়সড়ো বিপদের আশঙ্কা। এখানে ঠাঁই নেওয়া অনেকে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেও গিয়েছেন। তবে মাথা গোঁজার বিকল্প কিছু না থাকায় কালুটোনটোলা, কেশরপুর ও বসন্তটোলার ২০০–রও বেশি পরিবার এখানে রয়ে গিয়েছে। পরিবারগুলির মধ্যে পুজোর আনন্দ ছিটেফোঁটাও নেই। থাকার ব্যবস্থা বলতে দুই বাই চার ফুটের ত্রিপলের ঘর। এতদিন প্রশাসনের বিলি করা ত্রাণের খিচুড়ি ছিল ভরসা। কিন্তু এখন তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। অতএব, নিজেদের উদ্যোগে কোনওমতে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা।

বাঁধের ওপর শংকর মাহাতোর সঙ্গে দেখা হল। স্ত্রী ও নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে দুই মাস ধরে তিনি এখানেই রয়েছেন। পুজো কেমন কাটছে বলে প্রশ্ন করায় শংকরের উত্তর, ‘আমাদের আবার পুজো কীসের! এবারে আমাদের কাছে পুজো বলে কিছু নেই। নদীর জল কমেছে। কিন্তু বাড়ি ফিরতে পারছি না। কোথায় যাব? ভিটেমাটি, ফসলি জমি সবই তো গঙ্গার গ্রাসে। জানি না আরও কতদিন এই বাঁধে থাকতে হবে। পকেটে টাকাপয়সা নেই। দু’বেলার খাবার জোটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছি।’ ছেলেমেয়েদের পুজোর পোশাক কিনে দিতে পারেননি। সেই আক্ষেপ তাঁকে রীতিমতো কুরে-কুরে খাচ্ছে। আপাতত যে কোনও মূল্যে বাড়ি ফিরতে চান। প্রশাসনের কাছে শংকরের কাতর আর্জি, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমাদের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।’

ষাটোর্ধ্ব ফেকনি মাহাতোর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। রবিবার যে মহাষষ্ঠী সেকথা তিনি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন। পুজো কেমন কাটছে বলে তাঁকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তর এল, ‘আমাদের কথা ছাড়ুন, পুজোর কথা এখানকার ছোটরাও একদম ভুলে গিয়েছে।’ শত কষ্ট হলেও ফেকনি অবশ্য দেবীদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘শুনেছি, গঙ্গা নাকি দুর্গারই বোন। মায়ের কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা করব, মা গঙ্গা যেন শান্ত থাকেন। আমরা তো ভিটেমাটি হারিয়েছি। আর নতুন করে কেউ যেন তাঁদের ভিটেমাটি না হারান।’ আপাতত দেবীর কাছে প্রার্থনাতেই ফেকনিদের সবচেয়ে বড় ভরসা।

The put up বাঁধেই জীবন, পুজোর পরশহীন  appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *