সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। গত শুক্রবার জনবহুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একসপ্তাহ ধরে লড়াই করছিলেন মৃত্যুর সঙ্গে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দশটা নাগাদ থেমে গেল সব লড়াই। ‘পরিবর্তনের’ বাংলাদেশে অকালে ঝরে গেল একটি প্রাণ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সেদেশে। তার আগে এই মৃত্যু নিঃসন্দেহে এক আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি করল।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস। এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ”সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণ অভ্যুত্থান আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই।” সিঙ্গাপুর প্রশাসন তাঁকে টেলিফোনে এই প্রয়াণ সংবাদ জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হাদিকে ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অমর সৈনিক’ বলে অভিহিত করে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ইউনুস। দেশবাসীকে ‘ধৈর্য ও সংযম’ বজায় রাখার আবেদন করেছেন তিনি। শনিবার দেশজুড়ে শোকদিবস পালন করা হবে বলেও জানান। অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা।
তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এই মৃত্যুর দায় আদৌ এড়াতে পারেন না ইউনুস। গত বছরের জুলাইয়ে হওয়া আন্দোলনে বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তিগুলি যে জড়িত ছিল সেটাই যেন প্রমাণ করে দিল হাদির মৃত্যু। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তিকে যেভাবে মাথাচাড়া দিতে দেখা যাচ্ছে তাও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরাট ব্যর্থতা বলেই মনে করা হচ্ছে। যারই মাশুল গুনলেন হাদি।
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণার পরপরই গুলিবিদ্ধ হন হাদি। ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র্য প্রার্থী ছিলেন তিনি। বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। সেই সময় নমাজ সেরে রিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোটর সাইকেলে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা করল, তা এখনও অজ্ঞাত। গতকাল বুধবার রাতেই ইউনুসের প্রেস উইং জানিয়েছিল, হাদির শারীরিক অবস্থা রীতিমতো উদ্বেগজনক। সেই ঘোষণার পর থেকেই বাড়ছিল আশঙ্কা। অবশেষে বৃহস্পতিবার মিলল দুঃসংবাদ।
