ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টার ভারতযোগ! মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর প্রকাশ্যে এল ইউরোপীয় নেতার গোপন তথ্য। নিজের ‘ওভারসিস ইন্ডিয়ান কার্ড’ বা ওসিআই (যা প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য বরাদ্দ) তুলে ধরে কোস্টা জানালেন, তিনি আসলে প্রবাসী ভারতীয়। শুধু তাই নয়, পর্তুগালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বন্ধু কোস্টাকে ‘পর্তুগালের গান্ধী বলে সম্বোধন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আরও পড়ুন:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের ভারত যোগ সামনে এনে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোস্টা। বলেন, ‘আমি ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে আমি একজন প্রবাসী ভারতীয়। ফলে আপনারা বুঝতেই পারছেন এই ভারত সফর আমার কাছে কতখানি আবেগের।’ ভারতের গোয়া রাজ্যের সঙ্গে নিজের যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখানেই আমার শিকড়। এবং আমি এর জন্য গর্বিত। ভারত আমার পিতৃভূমি। ফলে ইউরোপ ও ভারতের এই যোগসূত্র আমার কাছে অনেকখানি ব্যক্তিগত।’
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে কোস্টা বলেন, ‘গতকাল সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি হতে পেরে আমি সম্মানিত। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ। এই অনুষ্ঠান ভারতের বৈচিত্র ও শৌর্যের প্রদর্শন। আর আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমাদের সম্পর্কের এক নয়া অধ্যায় শুরু হচ্ছে। যার মাধ্যমে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও ইউরোপ ও ভারতের জনগণের যোগসূত্র তৈরি হবে।’
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ”আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভনকে ভারতে অভ্যর্থনা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। মিঃ কোস্টা তাঁর সরল জীবনযাপন ও নিরলস দেশসেবার জন্য লিসবনের গান্ধী নামে পরিচিত। অন্যদিকে উরসুলা ভন শুধু জার্মানির প্রথম মহিলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী নন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। উনি গোটা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে পর্তুগালের লিসবনে অ্যান্টেনিও কোস্টার জন্ম হলেও তিনি আসলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাঁর বাবা অরল্যান্ডো দ্য কোস্টা গোয়ার এক বিখ্যাত লেখক ও কবি ছিলেন। এখনও গোয়ায় কোস্টার পিতার পরিবার ভালোবেসে তাঁকে ‘বাবুশ’ বলেন, কোঙ্কোনি ভাষায় যার অর্থ ‘মিষ্টি শিশু’। গোয়ার মারগাওয়ে তাঁদের ২০০ বছরেরও প্রাচীন পৈতৃক বাড়িটি এখনও রয়েছে। সেখানে তাঁদের পরিবার আজও বাস করেন। ২০১৫ সালে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কোস্টা। এরপর ২০১৭ সালে ভারত সফরে এসে নিজের গোয়ার বাড়িতে যান এই রাষ্ট্রনেতা। সেবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বাবা লিসবনে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কখনও গোয়া ছেড়ে যাননি।’
সর্বশেষ খবর
