নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও তীব্র প্রতিবাদ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে ‘তড়িপার, দূর হটো’ পোস্টার হাতে ওয়েলে নেমে ‘অমিত শাহ গো-ব্যাক’ স্লোগানও দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা। দলীয় সূত্রের খবর, সংবিধান সংশোধনী বিল-সহ আর যে দু’টি বিল আনা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদীয় যৌথ কমিটিতে তৃণমূল আপাতত কোনও প্রতিনিধি রাখবে না বলেই ঠিক করেছে।
এ প্রসঙ্গে দলের এক নেতা বলেছেন, “এই বিল কোনওদিনই পাস হবে না। তাই তা নিয়ে আলোচনারও প্রয়োজন নেই। সাংসদদের অনেক কাজ থাকে, তাঁদের সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। আর যদি কোনওভাবে বিল পাসও করিয়ে নেয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট এটাকে আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেবে।” সূত্রের খবর, সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে কংগ্রেসের সুর নরম থাকায় অসন্তুষ্ট তৃণমূল শিবির। বুধবার লোকসভায় দলের উপদলনেতা শতাব্দী রায়, মিতালী বাগদের হেনস্তা করা হয়েছিল বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছিল। এদিন তাঁরা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তৃণমূলের তরফে দলের আরেক সাংসদ আবু তাহের খানকেও শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিন দুপুরে শাহ রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল-সহ বাকি দু’টি বিলকে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব পেশ করতে উদ্যত হতেই স্লোগান দিতে দিতে ওয়েলে নেমে পড়েন তৃণমূল সাংসদরা। ট্রেজারি বেঞ্চের সামনে গিয়ে বিলের কপি ছিঁড়ে উড়িয়েও দেন তাঁরা। এদিন যতক্ষণ রাজ্যসভা চলেছে, প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে লাগাতার শাহর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা। হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে অনলাইন গেমিং বিল পাস করিয়ে নিয়েছে সরকারপক্ষ। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যসভার অধিবেশন সাইন ডাই বা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে যায়।
পরে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, “ওরা ওয়েলে মার্শাল নামিয়েছিল, আমাদের বলেছিল কেউ ওয়েলে না নামলে মার্শাল নামবে না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস কোনও ডিল করে না। তাই আমরা নেমেছি, আমি নিজেও আজ ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেছি।” রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের প্রথামাফিক ডাকা চা-চক্রেও যায়নি তৃণমূল।
