প্রথা মেনে শুধুমাত্র ২টি ছাগ বলি, বোল্লা কালীপুজো নিয়ে নির্দেশ হাই কোর্টের

প্রথা মেনে শুধুমাত্র ২টি ছাগ বলি, বোল্লা কালীপুজো নিয়ে নির্দেশ হাই কোর্টের

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


গোবিন্দ রায়: দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা কালী মন্দিরের বলি নিয়ে জটিলতা। অবশেষে মুশকিল আসান করল কলকাতা হাই কোর্ট। আবেদন মেনে কালী মন্দিরে প্রকাশ্যে পশুবলি নিয়ে বিধিনিষেধ জারি করল হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, বলি বন্ধ করতে প্রশাসনকেও জনসচেতনতা মূলক প্রচার করতে হবে। তবে প্রথা মেনে মন্দির ট্রাস্টকে দু’টি ছাগ বলি দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, কোনও মতেই যেন দুটির বেশি বলি যেন না হয়। এবং সাধারণ ভক্তরা মায়ের মন্দিরে মানত রেখে যে বলি দেন, তা যেন কোনও ভাবেই প্রকাশ্যে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি ঘেরা জায়গায় সেই বলির আয়োজন করতে হবে। যা কোনও ভাবেই জনসমক্ষে হবে না। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় কোনও ভাবেই ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে পশুবলিকে সমর্থন করে না বিচার বিভাগ। তাই ভবিষ্যতেও এই বলি বন্ধে পুজোর উদ্যোক্তা, প্রশাসন এবং স্থানীয়দেরই এগিয়ে আসতে হবে।

গত বছরও মন্দিরে পশু বলি বন্ধের দাবিতে একটি পশুপ্রেমী সংস্থা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। কিন্তু আবেদনে সাড়া দেয়নি আদালত। এবারও মামলা হয়। তাতে দাবি করা হয়, প্রতি বছর রাস পূর্ণিমার পর থেকে মন্দিরে প্রায় দশ হাজার ছাগল বলি দেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, এই প্রথা সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত ‘আবশ্যিক ধর্মীয় চর্চা’ নয় এবং এটি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। আরও দাবি, পশু বলি ধর্মীয় চর্চা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা প্রয়োজনীয় ধর্মীয় প্রথার মধ্যে পড়তে হবে। তবে, পশু বলি বন্ধে পশ্চিমবঙ্গে আইন প্রণয়নের অভাব রয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের যুক্তি, পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন, ১৯৬০-এর ধারা ২৮-এর অধীনে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পশু বলি অনুমোদিত।

ডিভিশন বেঞ্চের মতে, পশু বলি বন্ধের বিষয়টি শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশে কার্যকর সম্ভব নয়। নির্দেশে আদালত জানিয়েছে, মন্দির কমিটি এবং প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক প্রতীকী বলির প্রথা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ঐ শর্ত কঠোরভাবে পালন করতে হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তো বটেই উত্তরবঙ্গের বড় পুজোগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বোল্লা রক্ষাকালীর পুজো। আগে কয়েক হাজার পাঁঠা বলি হতো। শুধু এই দেশের বাসিন্দারাই নয়, সীমান্ত এলাকা পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকেও বোল্লা কালীর ভক্তরা বালুরঘাট থানা এলাকায় এসে এই পুজোয় অংশ নেন বলে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা রিপোর্ট দিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *